মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ফিফার রাজনীতিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ: ইনফান্তিনোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে অপসারণের জোর দাবির মুখে এবার সরাসরি তার সমর্থনে মাঠে নেমেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপকে ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ফিফাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফা বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাইয়ের মালিকানাধীন কোম্পানির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ এবং এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এছাড়া, কর্মক্ষেত্রে পরকীয়ার অভিযোগে তিনি নতুন বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েন।

বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগ ভেস্তে গেলেও ফিফা সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে অনড় উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ। সংস্থাগুলো ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জোট বাঁধার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

এমন সংকট মুহূর্তে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তায় তিনি লেখেন, ‘ফিফা যদি কোনো কারণে প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবে, তবে তারা একটি মারাত্মক ভুল করবে। তিনি অসাধারণ একজন প্রশাসক, যিনি সর্বকালের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন। তিনি চলে গেলে ফিফা আর কখনো এতটা সফল বা লাভজনক হতে পারবে না।’

ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের বিষয়টি নতুন নয়। ইতিপূর্বে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্পকে বিশেষ ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়েছিল। এবার নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পদ বাঁচাতে ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর ইউরোপীয় বা এশীয় ফুটবল সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বর ছাড়লেই ডেঙ্গুর আসল বিপদ, ডা. নোবেলের বিশেষ সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা

ফিফার রাজনীতিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ: ইনফান্তিনোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে অপসারণের জোর দাবির মুখে এবার সরাসরি তার সমর্থনে মাঠে নেমেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনফান্তিনোকে পদচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপকে ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করে ফিফাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফা বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব ১৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটি বিতর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাইয়ের মালিকানাধীন কোম্পানির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ এবং এশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এছাড়া, কর্মক্ষেত্রে পরকীয়ার অভিযোগে তিনি নতুন বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েন।

বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির উদ্যোগ ভেস্তে গেলেও ফিফা সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে অনড় উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ। সংস্থাগুলো ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জোট বাঁধার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

এমন সংকট মুহূর্তে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তায় তিনি লেখেন, ‘ফিফা যদি কোনো কারণে প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবে, তবে তারা একটি মারাত্মক ভুল করবে। তিনি অসাধারণ একজন প্রশাসক, যিনি সর্বকালের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছেন। তিনি চলে গেলে ফিফা আর কখনো এতটা সফল বা লাভজনক হতে পারবে না।’

ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের বিষয়টি নতুন নয়। ইতিপূর্বে বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্পকে বিশেষ ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়েছিল। এবার নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পদ বাঁচাতে ট্রাম্পের এই সরাসরি হুমকি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই বার্তার পর ইউরোপীয় বা এশীয় ফুটবল সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।