বিশ্বের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ, ২০২৬’। আগামী সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গ শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করছেন হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা। বিশ্বের ১৯১টি দেশের হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ায় তিনি ‘ফুল ফান্ডেড পার্টিসিপেন্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সংস্থা ‘রজমলোদেজ’ এবং ‘ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর’ যৌথভাবে এই উৎসবের আয়োজন করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন। কঠোর মূল্যায়নের পর নির্বাচিতদের মধ্যে জায়গা করে নেন বাংলাদেশের এই মেধাবী তরুণী।
‘ফুল ফান্ডেড পার্টিসিপেন্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় রাশিয়াতে যাতায়াত, আবাসনসহ উৎসবে অংশগ্রহণের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সৃজনশীল শিল্প, জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, খেলাধুলা, উদ্যোক্তা, মিডিয়া-ডিজিটালাইজেশন ও আইটি এবং সামাজিক খাত—এই সাতটি বিষয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়। হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা ‘সৃজনশীল শিল্প’ এবং ‘মিডিয়া-ডিজিটালাইজেশন ও আইটি’—এই দুটি ক্যাটাগরিতে আবেদন করে নির্বাচিত হয়েছেন।
বর্তমানে মুক্তা লিথুয়ানিয়ার কনাস শহরের লিথুয়ানিয়ান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটিতে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) শেষ করে পর্যটন খাতে কর্মজীবন শুরু করেন। দেশের জনপ্রিয় ভ্রমণভিত্তিক স্টার্টআপ ‘শেয়ার ট্রিপ’-এ ভিসা প্রসেসিং অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘উইংস ট্রাভেলস’-এও দায়িত্ব পালন করেছেন। পর্যটন ও হসপিটালিটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যেই গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি লিথুয়ানিয়ায় পাড়ি জমান। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন একজন ব্যবসায়ী এবং মা রাজিয়া সুলতানা গৃহিণী।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত মুক্তা বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করার পর একসময় বিষয়টি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি যে নির্বাচিত হব, তাও আবার ফুল ফান্ডেড পার্টিসিপেন্ট হিসেবে, এটা সত্যিই কল্পনাতীত ছিল।”
রিপোর্টারের নাম 
























