মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য-পুষ্টি নিশ্চিতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা: ইউনিসেফ-ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভা

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিতে ধর্মীয় নেতাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ইউনিসেফ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সভা আয়োজিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী সভায় বলেন, “ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য। তারা শুধু ধর্মীয় বিষয়েই নয়, মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আগ্রহী।”

মহাপরিচালক আরও বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা, মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও মানবিক করে গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুই একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসমূহ থেকে মা ও শিশুর জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ, গবেষণা এবং ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস)-এর তথ্য ও ফলাফল আলোচনায় তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দেশে বিশেষ করে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, কিশোরী এবং ০-৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের শিবচরে তীব্র লোডশেডিং: জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যবসায়ীরা দিশেহারা

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য-পুষ্টি নিশ্চিতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা: ইউনিসেফ-ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভা

আপডেট সময় : ১২:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিতে ধর্মীয় নেতাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ইউনিসেফ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সভা আয়োজিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী সভায় বলেন, “ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য। তারা শুধু ধর্মীয় বিষয়েই নয়, মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে আগ্রহী।”

মহাপরিচালক আরও বলেন, শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা, মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং কিশোরীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও মানবিক করে গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুই একটি সুস্থ, দক্ষ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসমূহ থেকে মা ও শিশুর জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ, গবেষণা এবং ২০২৫ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস)-এর তথ্য ও ফলাফল আলোচনায় তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দেশে বিশেষ করে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, কিশোরী এবং ০-৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদ্যমান।