বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সরকারের সম্ভাব্য উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এই সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
ইউটিএলের নেতারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ এবং নানা অনিয়মের পুরনো সুযোগগুলো আবারও ফিরে আসবে। তাদের মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ অপরিহার্য, যা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাহত হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকার আমলের ২০১৫ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের যে ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। এই পদ্ধতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিল। ইউটিএল মনে করে, বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা উচিত, কিন্তু অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে এমন পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
ইউটিএল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, শিক্ষক নিয়োগ কোনো রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা আর্থিক প্রভাবের বিষয় হতে পারে না। একজন শিক্ষককে তার মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে এনটিআরসিএ-র নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যস্ত করা যাবে না।
অতএব, ইউটিএল ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল ও আরও শক্তিশালী করার জন্য বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।
রিপোর্টারের নাম 



















