মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ‘পুরোপুরি সুস্থ’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি ‘পুরোপুরি সুস্থ’ আছেন। সম্প্রতি খামেনির সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এক বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, বৈঠকে দেশের চলমান বিভিন্ন সমস্যা এবং জনগণের জীবনযাত্রার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, তিনি নিজের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যার কথা সর্বোচ্চ নেতার কাছে তুলে ধরলে খামেনি স্বাভাবিকভাবেই তা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। বৈঠকে খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এর আগে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছিল, দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে খামেনি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখাই ছিল বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। বৈঠকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আবাসন পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে এপ্রিল মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুনে দুই দেশ সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে গত মাসে ওই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়ায়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। পরে সংঘাত বন্ধে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এই পরিস্থিতিতে খামেনির শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে পেজেশকিয়ানের প্রকাশ্য বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের নতুন নেতৃত্বে কালাম প্রেসিডেন্ট, ফারুক সেক্রেটারি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ‘পুরোপুরি সুস্থ’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘোষণা

আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি ‘পুরোপুরি সুস্থ’ আছেন। সম্প্রতি খামেনির সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এক বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, বৈঠকে দেশের চলমান বিভিন্ন সমস্যা এবং জনগণের জীবনযাত্রার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, তিনি নিজের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যার কথা সর্বোচ্চ নেতার কাছে তুলে ধরলে খামেনি স্বাভাবিকভাবেই তা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। বৈঠকে খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এর আগে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছিল, দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে খামেনি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখাই ছিল বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। বৈঠকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আবাসন পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে এপ্রিল মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুনে দুই দেশ সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। তবে গত মাসে ওই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়ায়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। পরে সংঘাত বন্ধে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এই পরিস্থিতিতে খামেনির শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে পেজেশকিয়ানের প্রকাশ্য বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।