মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা ফেরানোর উদ্যোগ: জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ, দুর্নীতির শঙ্কা

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএ-এর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময়ে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল, তা শিক্ষক নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে একজন প্রার্থী নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছিল।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো দূর করে সেটিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে যদি পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তা শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অতীতের মতো আবার তৈরি করবে। বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনরায় সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংক পরিচালকদের দুই বছরের মেয়াদসীমা তুলে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা ফেরানোর উদ্যোগ: জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ, দুর্নীতির শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:১৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএ-এর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময়ে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল, তা শিক্ষক নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে একজন প্রার্থী নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছিল।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো দূর করে সেটিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে যদি পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তা শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অতীতের মতো আবার তৈরি করবে। বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনরায় সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়।