কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত কট্টর ডানপন্থী সরকার সম্প্রতি গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের দাবিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া দ্বিতীয় কোনো দেশ হিসেবে কলম্বিয়া এই বিতর্কিত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অধিকারকে বৈধতা দিল। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল এবং ১৯৮১ সালে এটিকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে কখনোই স্বীকৃত হয়নি।
গত শুক্রবার ক্ষমতায় আসা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা তার নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার এই স্বীকৃতির ঘোষণা আসে। এক বিবৃতিতে কলম্বিয়া সরকার জানায়, তারা এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব এবং বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
জাতিসংঘ বরাবরই গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে আসছে, যা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মাসেও পুনরায় উল্লেখ করেন যে, গোলান মালভূমি সিরিয়ার অংশ এবং ইসরায়েলি দখল ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’।
কলম্বিয়ার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার প্রেসিডেন্ট এস্প্রিয়েলাকে ‘ভালো বন্ধু’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, এস্প্রিয়েলার অভিষেকের আগের দিন কলম্বিয়ার বারাঙ্কিয়া শহরে তাদের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়। সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, ‘ইহুদি জনগণের ঐতিহাসিক মাতৃভূমিতে টিকে থাকার জন্য প্রতিরক্ষাযোগ্য সীমান্ত অপরিহার্য।’
উল্লেখ্য, এস্প্রিয়েলার বামপন্থী পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রো গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং কলম্বিয়ায় ইসরায়েলি অস্ত্র আমদানি বন্ধ করে দেন। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে এলো। এই একই দিনে পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হন, যা দেশটিতে একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























