মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

স্ট্রেলিয়ায় স্যুটকেসে মিলল ‘সেক্স ডল’: লাশ ভেবে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহর থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওলেন (Ollen) নামের একটি শান্ত গ্রামের কাছে গত সপ্তাহে ঘটে এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গাড়িতে ভ্রমণরত দুই ব্যক্তি নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রাখা একটি সন্দেহজনক স্যুটকেস দেখতে পেয়ে মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হন। স্যুটকেসের ভেতরের অংশটিকে মানুষের রক্তাক্ত অবয়ব মনে হওয়ায় তাঁরা কালবিলম্ব না করে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। খবরের সংবেদনশীলতা ও মানব অবশেষের সুরতহাল বিবেচনায় নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটিকে একটি ‘সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড’ (Homicide) হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্চপর্যায়ের ফরেনসিক ও ডিটেকটিভ টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠায়।

তবে সোমবার (১০ আগস্ট) নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট লিন্ডা ব্র্যাডবেরি সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ল্যাবরেটরির ফরেনসিক পরীক্ষায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্যুটকেসে থাকা বস্তুটি কোনো মানুষের মৃতদেহ নয়। সেটি মানুষের শরীরের সুনির্দিষ্ট দৈহিক বৈশিষ্ট্যে তৈরি কৃত্রিম ‘লাইফলাইক সেক্স ডল’। পুতুলটির গায়ে মানানসই পোশাক, মাথায় চুল, নাকে পিয়ার্সিং ছিল। এমনকি গায়ে কালশিটে ও তীব্র আঁচড়ের মতো নিখুঁত কিছু দাগ ছিল—যা প্রথম দেখায় যে কাউকেই আঘাতপ্রাপ্ত নিহত মানুষের লাশের বিভ্রান্তিতে ফেলতে বাধ্য।

ঘটনার অদ্ভূত পরিণতি সত্ত্বেও প্রাথমিকভাবে খবর দেওয়া ওই দুই নাগরিকের সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছে পুলিশ। সুপারিনটেনডেন্ট ব্র্যাডবেরি বলেন, “সাধারণ চোখের দৃষ্টিতে সেটি নিশ্চিতভাবেই মৃতদেহের মতো মনে হচ্ছিল। নাগরিকদের সচেতনতা ও পুলিশকে দ্রুত জানানো একটি দায়িত্বশীল কাজ।” প্রথম দর্শনে আতঙ্কিত হয়ে পড়া ওই নাগরিকদের পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে যে ঘটনাটি কোনো নির্মম হত্যাকাণ্ড ছিল না, যাতে তারা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে পারেন।

ঘটনাটি নিয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক রসবোধের সৃষ্টি হলেও, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যেকোনো সন্দেহজনক বস্তুর ক্ষেত্রে নিবিড় ফরেনসিক অনুসন্ধানের যে স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল রয়েছে, তারা সেটিই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের নতুন নেতৃত্বে কালাম প্রেসিডেন্ট, ফারুক সেক্রেটারি

স্ট্রেলিয়ায় স্যুটকেসে মিলল ‘সেক্স ডল’: লাশ ভেবে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তোলপাড়

আপডেট সময় : ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহর থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওলেন (Ollen) নামের একটি শান্ত গ্রামের কাছে গত সপ্তাহে ঘটে এই অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গাড়িতে ভ্রমণরত দুই ব্যক্তি নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে রাখা একটি সন্দেহজনক স্যুটকেস দেখতে পেয়ে মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হন। স্যুটকেসের ভেতরের অংশটিকে মানুষের রক্তাক্ত অবয়ব মনে হওয়ায় তাঁরা কালবিলম্ব না করে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। খবরের সংবেদনশীলতা ও মানব অবশেষের সুরতহাল বিবেচনায় নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটিকে একটি ‘সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড’ (Homicide) হিসেবে চিহ্নিত করে উচ্চপর্যায়ের ফরেনসিক ও ডিটেকটিভ টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠায়।

তবে সোমবার (১০ আগস্ট) নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট লিন্ডা ব্র্যাডবেরি সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ল্যাবরেটরির ফরেনসিক পরীক্ষায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্যুটকেসে থাকা বস্তুটি কোনো মানুষের মৃতদেহ নয়। সেটি মানুষের শরীরের সুনির্দিষ্ট দৈহিক বৈশিষ্ট্যে তৈরি কৃত্রিম ‘লাইফলাইক সেক্স ডল’। পুতুলটির গায়ে মানানসই পোশাক, মাথায় চুল, নাকে পিয়ার্সিং ছিল। এমনকি গায়ে কালশিটে ও তীব্র আঁচড়ের মতো নিখুঁত কিছু দাগ ছিল—যা প্রথম দেখায় যে কাউকেই আঘাতপ্রাপ্ত নিহত মানুষের লাশের বিভ্রান্তিতে ফেলতে বাধ্য।

ঘটনার অদ্ভূত পরিণতি সত্ত্বেও প্রাথমিকভাবে খবর দেওয়া ওই দুই নাগরিকের সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছে পুলিশ। সুপারিনটেনডেন্ট ব্র্যাডবেরি বলেন, “সাধারণ চোখের দৃষ্টিতে সেটি নিশ্চিতভাবেই মৃতদেহের মতো মনে হচ্ছিল। নাগরিকদের সচেতনতা ও পুলিশকে দ্রুত জানানো একটি দায়িত্বশীল কাজ।” প্রথম দর্শনে আতঙ্কিত হয়ে পড়া ওই নাগরিকদের পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে যে ঘটনাটি কোনো নির্মম হত্যাকাণ্ড ছিল না, যাতে তারা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে পারেন।

ঘটনাটি নিয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক রসবোধের সৃষ্টি হলেও, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যেকোনো সন্দেহজনক বস্তুর ক্ষেত্রে নিবিড় ফরেনসিক অনুসন্ধানের যে স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল রয়েছে, তারা সেটিই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করেছেন।