মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

সাকিব-হৃদয়ের জাফনাকে হারিয়ে এলপিএল চ্যাম্পিয়ন গল

লিগ পর্বে নিজেদের দাপট দেখিয়ে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ছুঁতে পারেনি জাফনা কিংস। সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দলটিকে হারিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে গল গ্যালান্টস। এটি গলের ইতিহাসে প্রথম এলপিএল ট্রফি জয়।

কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লো-স্কোরিং ফাইনালে জাফনাকে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট করে দেয় গল। এরপর মাত্র ১৫.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়েই তারা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ২৫ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে গল, যেখানে তাদের প্রয়োজন ছিল ১২৪ রান।

গলের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন চারিথ আসালাঙ্কা ও এশান মালিঙ্গা। এই দুই বোলার মিলে জাফনার ছয়টি উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে মালিঙ্গার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত গলের হাতে চলে আসে।

টুর্নামেন্টজুড়েও দুর্দান্ত ছিলেন মালিঙ্গা। ফাইনালে সাকিবসহ তিনটি উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্ট শেষ করেন ১৭ উইকেট দিয়ে। ৯.৩২ ইকোনমি রেটে বোলিং করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেন।

জাফনার ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংসটি আসে উইকেটকিপার-ওপেনার কামিল মিশারার ব্যাট থেকে। তিনি ৩২ বলে ৪১ রান করে ১৩তম ওভারে মালিঙ্গার বলে আউট হন। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে চামিন্দু বিক্রমেসিংহের ব্যাট থেকে, যিনি ১৬ বলে ২৫ রান করেন।

বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয় ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন। হৃদয় ১০ বলে ১০ রান করে আউট হন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে মাত্র ৯ রান।

জাফনার ইনিংস গুটিয়ে দিতে মালিঙ্গার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আসালাঙ্কা। দুই হাতে স্পিন করতে সক্ষম থারিন্ডু রত্নায়েকেও ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার স্যাম হার্পারকে হারায় গল। এরপর টম রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা দলকে ম্যাচে ফেরান। রজার্স ২৭ বলে ৩৪ এবং কালুপাহানা ১৯ বলে ৩১ রান করেন।

নবম ওভারে বল হাতে জোড়া উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। একই ওভারে রজার্স ও কালুপাহানাকে ফিরিয়ে ম্যাচে জাফনার সম্ভাবনা জাগান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত দাসুন শানাকা ও সহান আরাচ্চিগে আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শিরোপা উল্লাসে মাতে গল।

জাফনা কিংস: ১২৩ অলআউট (১৯.৩ ওভার)

গল গ্যালান্টস: ১২৬/৫ (১৫.৫ ওভার)

ফল: গল গ্যালান্টস ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: চারিথ আসালাঙ্কা

সিরিজসেরা: কামিল মিশারা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান পরিবর্তন না আনলে চাপ অব্যাহত থাকবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

সাকিব-হৃদয়ের জাফনাকে হারিয়ে এলপিএল চ্যাম্পিয়ন গল

আপডেট সময় : ১০:২১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

লিগ পর্বে নিজেদের দাপট দেখিয়ে ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ছুঁতে পারেনি জাফনা কিংস। সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দলটিকে হারিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে গল গ্যালান্টস। এটি গলের ইতিহাসে প্রথম এলপিএল ট্রফি জয়।

কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লো-স্কোরিং ফাইনালে জাফনাকে মাত্র ১২৩ রানে অলআউট করে দেয় গল। এরপর মাত্র ১৫.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়েই তারা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ২৫ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে গল, যেখানে তাদের প্রয়োজন ছিল ১২৪ রান।

গলের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন চারিথ আসালাঙ্কা ও এশান মালিঙ্গা। এই দুই বোলার মিলে জাফনার ছয়টি উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে মালিঙ্গার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত গলের হাতে চলে আসে।

টুর্নামেন্টজুড়েও দুর্দান্ত ছিলেন মালিঙ্গা। ফাইনালে সাকিবসহ তিনটি উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্ট শেষ করেন ১৭ উইকেট দিয়ে। ৯.৩২ ইকোনমি রেটে বোলিং করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেন।

জাফনার ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংসটি আসে উইকেটকিপার-ওপেনার কামিল মিশারার ব্যাট থেকে। তিনি ৩২ বলে ৪১ রান করে ১৩তম ওভারে মালিঙ্গার বলে আউট হন। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে চামিন্দু বিক্রমেসিংহের ব্যাট থেকে, যিনি ১৬ বলে ২৫ রান করেন।

বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয় ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন। হৃদয় ১০ বলে ১০ রান করে আউট হন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে মাত্র ৯ রান।

জাফনার ইনিংস গুটিয়ে দিতে মালিঙ্গার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আসালাঙ্কা। দুই হাতে স্পিন করতে সক্ষম থারিন্ডু রত্নায়েকেও ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।

১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার স্যাম হার্পারকে হারায় গল। এরপর টম রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা দলকে ম্যাচে ফেরান। রজার্স ২৭ বলে ৩৪ এবং কালুপাহানা ১৯ বলে ৩১ রান করেন।

নবম ওভারে বল হাতে জোড়া উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। একই ওভারে রজার্স ও কালুপাহানাকে ফিরিয়ে ম্যাচে জাফনার সম্ভাবনা জাগান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত দাসুন শানাকা ও সহান আরাচ্চিগে আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শিরোপা উল্লাসে মাতে গল।

জাফনা কিংস: ১২৩ অলআউট (১৯.৩ ওভার)

গল গ্যালান্টস: ১২৬/৫ (১৫.৫ ওভার)

ফল: গল গ্যালান্টস ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা: চারিথ আসালাঙ্কা

সিরিজসেরা: কামিল মিশারা