মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

বিদেশের মাটিতে টেস্টে সাফল্য: বাংলাদেশের ক্রিকেটের মুক্তির পথ কোথায়?

বিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যর্থতা দীর্ঘদিনের। এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তির পথ রাতারাতি আসবে না, তবে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। এই পথ পরিষ্কার এবং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অপরিহার্য।

প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেটে বড় পরিবর্তন আনা জরুরি। পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেট তৈরি করতে হবে, যেখানে ব্যাটাররা নিয়মিত ১৩৫ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বলের মুখোমুখি হতে পারবেন। এতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেস আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, বিদেশ সফরের আগে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। দুই-তিনদিনের আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনের জন্য প্রস্তুতি হয় না। সফরের অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ দরকার, যা খেলোয়াড়দের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

তৃতীয়ত, এখন থেকেই মানসম্পন্ন পেসার তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু একজন নাহিদ রানা বা তাসকিন আহমেদের ওপর নির্ভর করে টেস্ট আক্রমণ দাঁড় করানো সম্ভব নয়। একসঙ্গে চার-পাঁচজন আন্তর্জাতিক মানের পেসার তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও সঠিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

চতুর্থত, ব্যাটারদের টেকনিক্যাল প্রস্তুতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা দরকার। বিদেশে রান করার চেয়েও আগে প্রয়োজন উইকেটে টিকে থাকার দক্ষতা। বল ছেড়ে দেওয়া, শরীরের কাছে বল সামলানো, বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন বলের প্রথম স্পেল ধৈর্য ধরে পার করা—এসব বিষয়কে প্রশিক্ষণের কেন্দ্রে আনতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিদেশ সফরকে কেবল একটি পর্যটন হিসেবে না দেখে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রকল্প’ হিসেবে দেখতে হবে। যেখানে প্রতিটি সফরের আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। এই উপায়গুলো যে বাংলাদেশ জানে না, এমন নয়; সমস্যা হলো, জানার নাম মানা নয়, বরং মানার নামই জানা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান পরিবর্তন না আনলে চাপ অব্যাহত থাকবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

বিদেশের মাটিতে টেস্টে সাফল্য: বাংলাদেশের ক্রিকেটের মুক্তির পথ কোথায়?

আপডেট সময় : ১০:১৪:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যর্থতা দীর্ঘদিনের। এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তির পথ রাতারাতি আসবে না, তবে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। এই পথ পরিষ্কার এবং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অপরিহার্য।

প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেটে বড় পরিবর্তন আনা জরুরি। পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেট তৈরি করতে হবে, যেখানে ব্যাটাররা নিয়মিত ১৩৫ কিলোমিটার বা তার বেশি গতির বলের মুখোমুখি হতে পারবেন। এতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেস আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, বিদেশ সফরের আগে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। দুই-তিনদিনের আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো কন্ডিশনের জন্য প্রস্তুতি হয় না। সফরের অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট দেশে গিয়ে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ দরকার, যা খেলোয়াড়দের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

তৃতীয়ত, এখন থেকেই মানসম্পন্ন পেসার তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু একজন নাহিদ রানা বা তাসকিন আহমেদের ওপর নির্ভর করে টেস্ট আক্রমণ দাঁড় করানো সম্ভব নয়। একসঙ্গে চার-পাঁচজন আন্তর্জাতিক মানের পেসার তৈরি করতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও সঠিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

চতুর্থত, ব্যাটারদের টেকনিক্যাল প্রস্তুতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা দরকার। বিদেশে রান করার চেয়েও আগে প্রয়োজন উইকেটে টিকে থাকার দক্ষতা। বল ছেড়ে দেওয়া, শরীরের কাছে বল সামলানো, বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন বলের প্রথম স্পেল ধৈর্য ধরে পার করা—এসব বিষয়কে প্রশিক্ষণের কেন্দ্রে আনতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিদেশ সফরকে কেবল একটি পর্যটন হিসেবে না দেখে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রকল্প’ হিসেবে দেখতে হবে। যেখানে প্রতিটি সফরের আগে বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। এই উপায়গুলো যে বাংলাদেশ জানে না, এমন নয়; সমস্যা হলো, জানার নাম মানা নয়, বরং মানার নামই জানা।