মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

ট্রাম্প আমলের শুল্কনীতি বাতিল: আমদানিকারকদের ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের একটি বড় অংশ দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ার পর আমদানিকারকদের এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন শুল্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফেরত প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, যা বাণিজ্য বিশ্লেষকদেরও বিস্মিত করেছে।

কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে। ওই রায়ের আগে, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন (১৬ হাজার ৬০০ কোটি) ডলার শুল্ক আদায় করেছিল। নিম্ন আদালতের বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থাকে (সিবিপি) দ্রুত শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এত উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা আইনত বৈধ ছিল না। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যবহারের ওপর উল্লেখযোগ্য সীমা আরোপ করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নজিরবিহীন মাত্রায় শুল্ক আরোপের যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, এই রায় সেটির একটি নতুন মোড় উন্মোচন করেছে।

যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্বয়ং ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে শুল্ক ফেরতের বিষয়টি আরও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সাবেক অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একসময় বলেছিলেন, এই মামলা-মোকদ্দমা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হলে তা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক ধরনের ভর্তুকি হবে। গত মাসেও ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার’ ক্ষতির অভিযোগ করেছিলেন।

তবে, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান সিডলি অস্টিনের বাণিজ্য আইনজীবী টেড মারফি জানিয়েছেন, প্রশাসন অপ্রত্যাশিত দ্রুতগতিতে অর্থ ফেরতের কাজ সম্পন্ন করছে। সিবিপি সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১২৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে আরও বড় অঙ্কের অর্থ দ্রুতই ফেরত দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী পাঠানোর আশ্বাস

ট্রাম্প আমলের শুল্কনীতি বাতিল: আমদানিকারকদের ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের একটি বড় অংশ দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ার পর আমদানিকারকদের এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন শুল্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফেরত প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে, যা বাণিজ্য বিশ্লেষকদেরও বিস্মিত করেছে।

কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে। ওই রায়ের আগে, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন (১৬ হাজার ৬০০ কোটি) ডলার শুল্ক আদায় করেছিল। নিম্ন আদালতের বিচারকরা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থাকে (সিবিপি) দ্রুত শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এত উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা আইনত বৈধ ছিল না। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যবহারের ওপর উল্লেখযোগ্য সীমা আরোপ করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নজিরবিহীন মাত্রায় শুল্ক আরোপের যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, এই রায় সেটির একটি নতুন মোড় উন্মোচন করেছে।

যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্বয়ং ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে শুল্ক ফেরতের বিষয়টি আরও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সাবেক অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একসময় বলেছিলেন, এই মামলা-মোকদ্দমা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হলে তা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক ধরনের ভর্তুকি হবে। গত মাসেও ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার’ ক্ষতির অভিযোগ করেছিলেন।

তবে, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান সিডলি অস্টিনের বাণিজ্য আইনজীবী টেড মারফি জানিয়েছেন, প্রশাসন অপ্রত্যাশিত দ্রুতগতিতে অর্থ ফেরতের কাজ সম্পন্ন করছে। সিবিপি সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ১২৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে আরও বড় অঙ্কের অর্থ দ্রুতই ফেরত দেওয়া হবে।