মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণবিরোধী অভিযান: মসজিদ-মন্দির থেকে মাইক অপসারণ, মুসলিম নিপীড়নের অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লাউডস্পিকার অপসারণ করেছে রাজ্য পুলিশ। মাত্র দুই দিনের এই অভিযানে ১ হাজার ২৭৬টি মসজিদ এবং ১৯৯টি মন্দিরের মাইক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টির অভিযোগে পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযান এমন এক সময়ে পরিচালিত হলো যখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মুসলমানদের গরু কোরবানিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এবার রাজ্য পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই অভিযান কোনো ধর্মীয় বৈষম্য ছাড়াই সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয়েছে। রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পরিচালিত এই অভিযানে উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা কমিটিকে মাইক সরিয়ে নিতে এবং শব্দদূষণ বিধিমালা মেনে চলতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ ও বিধিমালা) ২০০০ অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দিনের বেলায় যেকোনো লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য পুলিশের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার করতে হবে এবং শব্দের মাত্রা কঠোরভাবে ৫০ থেকে ৭৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।

তবে, এই অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার জন্য কোনো লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়নি, বরং মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিনি: জরিপ

পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণবিরোধী অভিযান: মসজিদ-মন্দির থেকে মাইক অপসারণ, মুসলিম নিপীড়নের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে প্রায় দেড় হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে লাউডস্পিকার অপসারণ করেছে রাজ্য পুলিশ। মাত্র দুই দিনের এই অভিযানে ১ হাজার ২৭৬টি মসজিদ এবং ১৯৯টি মন্দিরের মাইক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টির অভিযোগে পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযান এমন এক সময়ে পরিচালিত হলো যখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মুসলমানদের গরু কোরবানিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এবার রাজ্য পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই অভিযান কোনো ধর্মীয় বৈষম্য ছাড়াই সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয়েছে। রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পরিচালিত এই অভিযানে উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা কমিটিকে মাইক সরিয়ে নিতে এবং শব্দদূষণ বিধিমালা মেনে চলতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ ও বিধিমালা) ২০০০ অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দিনের বেলায় যেকোনো লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য পুলিশের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার করতে হবে এবং শব্দের মাত্রা কঠোরভাবে ৫০ থেকে ৭৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে।

তবে, এই অভিযানের বিষয়ে বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার জন্য কোনো লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়নি, বরং মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।