মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

নিয়োগ কেলেঙ্কারি: উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড, অনড় শিক্ষার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ভারতে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তসহ সকল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৫শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন বর্তমানে ১৩তম দিনে গড়িয়েছে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এসেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশন করছেন ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। গত ২রা আগস্ট থেকে শুরু হওয়া তার অনশনের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক মাহাতোর সাথে ফোনে কথা বলে তাকে অন্তত জল পান করার অনুরোধ জানান, যা তিনি মেনে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, ওয়াংচুক নিজেও দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি আন্দোলনের ২৬ দিন অনশন করেছিলেন।

জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের মুখপাত্র জীবন কুমার জানান, আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে দুজন নারীসহ আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল, পরীক্ষা কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্ত এবং সামগ্রিক পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার আনা। তারা আরও দাবি করেছেন যে, পরীক্ষা বাতিলের ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে।

এই ইস্যুতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর সহযোগী দল কংগ্রেসও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের বলেন, “ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব, দিল্লি বা অন্য যেকোনো জায়গাই হোক না কেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আছি। আমরা তাদের পাশে থেকে তাদের সমস্যাগুলোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”

ছাত্র নেতা রাধে কুমার এবং রাহুল ক্রান্তি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আগামী ১০ই আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচির প্রেক্ষিতে রাঁচি প্রশাসন ৬ই আগস্ট থেকে ১২ই আগস্ট পর্যন্ত বিধানসভার ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যা যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করে। এদিকে, নিয়োগ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সিআইডি তদন্ত জোরদার করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিনি: জরিপ

নিয়োগ কেলেঙ্কারি: উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড, অনড় শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তসহ সকল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৫শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন বর্তমানে ১৩তম দিনে গড়িয়েছে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এসেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশন করছেন ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। গত ২রা আগস্ট থেকে শুরু হওয়া তার অনশনের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক মাহাতোর সাথে ফোনে কথা বলে তাকে অন্তত জল পান করার অনুরোধ জানান, যা তিনি মেনে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, ওয়াংচুক নিজেও দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি আন্দোলনের ২৬ দিন অনশন করেছিলেন।

জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের মুখপাত্র জীবন কুমার জানান, আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে দুজন নারীসহ আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দিয়েছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল, পরীক্ষা কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্ত এবং সামগ্রিক পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার আনা। তারা আরও দাবি করেছেন যে, পরীক্ষা বাতিলের ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে।

এই ইস্যুতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর সহযোগী দল কংগ্রেসও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের বলেন, “ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব, দিল্লি বা অন্য যেকোনো জায়গাই হোক না কেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আছি। আমরা তাদের পাশে থেকে তাদের সমস্যাগুলোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”

ছাত্র নেতা রাধে কুমার এবং রাহুল ক্রান্তি সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে আগামী ১০ই আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচির প্রেক্ষিতে রাঁচি প্রশাসন ৬ই আগস্ট থেকে ১২ই আগস্ট পর্যন্ত বিধানসভার ৭৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে, যা যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করে। এদিকে, নিয়োগ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সিআইডি তদন্ত জোরদার করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।