বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ‘জুলাই বিপ্লবের’ দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস-এর ডাইভার্সিটি প্লাজায় এক আন্তর্জাতিক স্মরণ, শ্রদ্ধা ও ঐক্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জান দেবো, কিন্তু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে শহীদ ওসমান বিন হাদি এবং জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এই অনুষ্ঠানে।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সকাল ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া, শহীদ ওসমান বিন হাদি ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতিচারণ, দেশাত্মবোধক ও সংগ্রামী সংগীত পরিবেশনা এবং ইসলামী নাশিদ। এছাড়াও, ‘ভয়াবহতা থেকে বিজয়: জুলাই বিপ্লব’ শীর্ষক এক বিশেষ আর্ট, আলোকচিত্র ও ঐতিহাসিক প্রদর্শনী এবং ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়, যা বিপ্লবের নানা দিক তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পর্ব, যেখানে গণসংগীত, আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক কবিতা এবং বিপ্লবভিত্তিক পরিবেশনা ছিল। বিশেষ করে, রকস্টার ব্যান্ডের বিপ্লব গানগুলো উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
‘প্রতিরোধ থেকে পুনর্গঠন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, শান্তি ও নিরাপত্তা, রসায়ন ও মানববিজ্ঞান, গণিত ও ডাটা অ্যানালিটিক্স, প্রযুক্তি এবং ইতিহাস ও সামাজিক মনোবিজ্ঞান বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা তাদের মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই আলোচনায় জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য এবং এর পরবর্তী সময়ে দেশের পুনর্গঠনে এর প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের বীর যোদ্ধা, শহীদ পরিবার, আহত সংগ্রামী, মানবাধিকার কর্মী, কমিউনিটি সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই আয়োজন সফল করতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শেখ মিজানকে প্রধান করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ড. আবিদ বাহার, ডা. জুনুন চৌধুরী, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, রহমত উল্লাহ, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, এমদাদ চৌধুরী দীপু, মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, এ. কে. আব্দুল কাদের, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম, নূরুল হক চৌধুরী, জাবেদ আহমদ, আব্দুল আলীম এবং দীপন গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত সংগ্রামীদের অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বক্তারা এই দ্বিতীয় বার্ষিকীকে কেবল একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















