চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কলা চুরির প্রতিবাদ করায় মোহাম্মদ তোহা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীর পাড়া নতুনবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তোহা ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে এবং পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মোহাম্মদ তোহার বাড়ির গাছ থেকে কলা চুরি হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোহার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, একপর্যায়ে এজাহার মিয়ার পরিবারের সদস্যরা তোহাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পটিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এজাহার মিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃত আনোয়ার হোসেন এজাহার মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল।
নিহত তোহার পরিবারের অভিযোগ, তাকে শক্ত লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
পটিয়া আইনজীবী সমিতির পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন নিহত মোহাম্মদ তোহাকে অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, পটিয়া অ্যাডভোকেট ক্লার্কস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 

























