ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

বিসিএস জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্য আটক: সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তও গ্রেপ্তার

২০২৫ সালের জুলাই মাসে চাঞ্চল্যকর এক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই চক্র অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত প্রার্থীর বদলে অন্যকে পরীক্ষায় বসিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দিত বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাসহ তিন সরকারি চাকরিজীবীকে আটক করে সিআইডি। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় একই কৌশলে জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল।

সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব সে সময় গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। আটককৃতরা হলেন— নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। নুরন্নবী ও সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২-এর বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে জুলফিকার আলী কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

সিআইডি জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ২০২৫ সালের ৫ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং ২১ জুন যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। যোগদানের সময় প্রার্থীদের আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন নির্বাচিত প্রার্থীর হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে পুনরায় লিখতে দিলে আগের লেখার সঙ্গে স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিন প্রার্থী স্বীকার করেন, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশ নেননি; তাদের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।

এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২২ জুন সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই মামলাটি ছায়া তদন্ত করে সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট। পরে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডির কাছে হস্তান্তর হলে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয় এবং সংঘবদ্ধ এই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিশালে ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দুই সহোদরের মর্মান্তিক সলিলসমাধি

বিসিএস জালিয়াতি চক্রের তিন সদস্য আটক: সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তও গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

২০২৫ সালের জুলাই মাসে চাঞ্চল্যকর এক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই চক্র অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত প্রার্থীর বদলে অন্যকে পরীক্ষায় বসিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দিত বলে অভিযোগ ওঠে। সে সময় ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাসহ তিন সরকারি চাকরিজীবীকে আটক করে সিআইডি। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় একই কৌশলে জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল।

সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব সে সময় গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। আটককৃতরা হলেন— নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। নুরন্নবী ও সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২-এর বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে জুলফিকার আলী কক্সবাজারের মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

সিআইডি জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনে কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য ২০২৫ সালের ৫ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১১২ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং ২১ জুন যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। যোগদানের সময় প্রার্থীদের আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন নির্বাচিত প্রার্থীর হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে পুনরায় লিখতে দিলে আগের লেখার সঙ্গে স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিন প্রার্থী স্বীকার করেন, তারা নিজেরা পরীক্ষায় অংশ নেননি; তাদের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।

এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২২ জুন সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই মামলাটি ছায়া তদন্ত করে সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট। পরে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডির কাছে হস্তান্তর হলে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয় এবং সংঘবদ্ধ এই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।