মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:০৬ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সদরপুরে জানালা ভেঙে কিশোরীকে ধর্ষণ, আটক ২

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৪১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে (১৫) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

কিশোরীর চাচা জানান, ঘটনার রাতে তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর ছোট বোন ও ছোট ভাই ছিল। রাত ১টায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ঘরটি ঘিরে ফেলে এবং প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তবে ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা কিশোরীকে তুলে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়, যেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া করে দুজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুনি দিয়ে তাদের সদরপুর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলো একই এলাকার ইসমাইল মৃধার ছেলে হেলাল মৃধা (২০) এবং টিটু শিকদারের ছেলে রইস শিকদার (১৬)।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে ঘরের দরজা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়। আমি এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার চাই।’ ওই কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বোনের চুলের মুটি ধরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শামছুল আজম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছর পর আবারও পর্দায় রজনীকান্ত ও নয়নতারা জুটি

28 October 2026

১৮ মাসের মধ্যেই চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সদরপুরে জানালা ভেঙে কিশোরীকে ধর্ষণ, আটক ২

হালনাগাদ সময় : ১০:৪১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে (১৫) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।

কিশোরীর চাচা জানান, ঘটনার রাতে তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর ছোট বোন ও ছোট ভাই ছিল। রাত ১টায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ঘরটি ঘিরে ফেলে এবং প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তবে ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা কিশোরীকে তুলে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়, যেখানে তিন যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া করে দুজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুনি দিয়ে তাদের সদরপুর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলো একই এলাকার ইসমাইল মৃধার ছেলে হেলাল মৃধা (২০) এবং টিটু শিকদারের ছেলে রইস শিকদার (১৬)।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে ঘরের দরজা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়। আমি এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার চাই।’ ওই কিশোরীর ছোট বোন জানায়, দুর্বৃত্তরা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বোনের চুলের মুটি ধরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) শামছুল আজম বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

Share this news as a Photo Card