বাংলাদেশে ‘মিনিকেট’ নামে কোনো স্বীকৃত ধানের জাত না থাকলেও দেশের প্রায় প্রতিটি বাজারেই এটি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া চালের অন্যতম। একই প্রক্রিয়ায় ব্রি-৪৯ ধানকে নাজিরশাইল নাম দিয়ে বিক্রি করে অধিক মুনাফা লুটে সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি তদন্তেও একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে বিক্রি হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রতারণা বন্ধ করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০২৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি) একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। সেখানে চালের বস্তায় ধানের প্রকৃত জাত, উৎপাদনের তারিখ, মিলের নাম-ঠিকানা ও মিলগেট মূল্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই নির্দেশনা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিভাগের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে চালকল মালিকদের ১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে পরিপত্রটি কার্যত আটকে দেওয়া হয়। যদিও অভিযুক্তরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন, তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিদর্শনে দেখা গেছে, একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল বাজারে বিভিন্ন নামে ও বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় মিলার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি নিরসনেই চালের প্রতিটি বস্তায় উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা, উপজেলা, উৎপাদনের তারিখ, মিলগেট মূল্য এবং ধান-চালের প্রকৃত জাত (ভ্যারাইটি) উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মিল মালিকদের বড় অংশ প্রকাশ্যেই আপত্তি জানায়। তাদের যুক্তি ছিল, তারা ধানের জাত দেখে ধান কেনেন না, ফলে চালের বস্তায় জাত উল্লেখ করাও সম্ভব নয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রীর দপ্তরের কাজ করা কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কুষ্টিয়া, শেরপুর, নওগাঁ ও দিনাজপুর অঞ্চলের চালকল মালিকদের পারস্পরিক স্বার্থের দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট পরিপত্রটির বাস্তবায়ন আটকে দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























