বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে এক নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, যা দেশকে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় ফিরিয়ে এনেছে। এই আন্দোলন শিখিয়েছে কীভাবে জালিম শাসকের মুখোমুখি হতে হয় এবং অধিকার আদায়ে জীবন বাজি রেখে সাফল্য অর্জন করতে হয়।
জুলাই আন্দোলন কোনো একক দিনে সৃষ্টি হয়নি, বরং এটি ছিল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আপামর জনসাধারণের বঞ্চনা, নির্যাতন ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এক সম্মিলিত প্রয়াস। শ্রমজীবী, পেশাজীবী, কৃষক, প্রবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহিণী—কেউই এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে বাদ যাননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেমনটি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন সবার।’ এটি একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়ে ক্রমশ বঞ্চিত ও নির্যাতিত দেশবাসীর মুক্তির পথে পরিণত হয় এবং গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যা পরে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের পথে শহীদ হন আবু সাইদ, ওয়াসিম আকরাম, মুগ্ধসহ অসংখ্য ছাত্র-জনতা এবং আহত হন লক্ষাধিক মানুষ। তাদের আত্মত্যাগ এই জাতিকে গণঅভ্যুত্থানের দিকে চালিত করে। ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে মঈন-ফখরুদ্দীনের ক্ষমতা দখলের পেছনে মূল শক্তি ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসররা। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা হয়, যা পিলখানা হত্যাকাণ্ড, গুম, শেয়ারবাজার লুট, সাংবাদিক হত্যা, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, বাকস্বাধীনতা হরণ, ব্যাংক লুট, বিদেশে অর্থ পাচার, বিরোধী দল দমন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ, মেগা প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি এবং অস্বাভাবিক কোটা চালুর মতো অসংখ্য অনিয়মের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার পথ তৈরি করে।
গণঅভ্যুত্থানের একেবারে শুরুর দিকে আন্দোলনটি অস্বাভাবিক কোটার বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবেই শুরু হয়েছিল, যা দেশের প্রায় প্রতিটি বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 






















