উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আঠারো বছরের তরুণ আলিফ চৌধুরী। চোখে ছিল বড় ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন, পরিবারের হাল ধরার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু ‘জুলাই বিপ্লব’-পরবর্তী ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়ে এখন তিনি হাসপাতালের বিছানায় শায়িত। তার এক চোখে অন্ধকার, অন্য চোখে অশ্রু। আলোকিত ভবিষ্যতের বদলে আজ তার পুরো পরিবার দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকা পড়েছে।
গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ চলাকালে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফ চৌধুরী চোখে গুরুতর আঘাত পান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। মা-বাবা সঙ্গে না থাকায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কায় সম্মতিপত্রে আলিফকেই স্বাক্ষর করতে হয়। অপারেশনের পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, আলিফের বাম চোখে আর দৃষ্টি ফেরার সম্ভাবনা নেই।
আলিফের এই ঘটনা ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এহসান রফিকের অমানবিক নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সলিমুল্লাহ হলের এই মেধাবী ছাত্র। দেশের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর তাকে ভারতের শংকর নেত্রালয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকায় ওই বছরের আগস্টে তিনি দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চলে যান।
বিগত সরকারের আমলে এহসান রফিকের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হলেও তারা হলেই বহাল তবিয়তে ছিলেন, যার ফলে ভুক্তভোগীকেই দেশ ছাড়তে হয়েছিল। অন্যদিকে, বর্তমান বিএনপি সরকারের ছাত্রদল কর্তৃক আলিফের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। উভয় ঘটনাতেই ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। উভয় ক্ষেত্রেই সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বলি হয়েছেন এই দুই তরুণ; একজন বিগত ছাত্রলীগের হাতে, অন্যজন বর্তমান ছাত্রদলের হাতে।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “এ ধরনের ঘটনাগুলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ফল। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বহুদিন ধরেই চলে আসছে, যার ফলে সমাজে এক ধরনের অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।”
রিপোর্টারের নাম 
























