ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

তিস্তার গ্রাস থেকে বাঁচতে পারছে না ঘরবাড়ি, উদ্ধার বোট পড়ে আছে কাদামাটিতে

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নতুন করে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে, তখন দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য বরাদ্দ সরকারি রেসকিউ বোট পড়ে আছে নদীর পাড়ের কাদামাটিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘তিস্তা-রংপুর-২’ নামের মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি উদ্বোধনের দিন চালু করার পর আর পানিতে নামানো হয়নি। শুধু তাই নয়, বোটটির দায়িত্ব, ব্যবহার ও সংরক্ষণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তিস্তা নদীর পাড়ে কাদামাটির ওপর পড়ে রয়েছে ‘তিস্তা-রংপুর-২’ মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি। বোটটির গায়ে লেখা রয়েছে বন্যা উপদ্রুত জেলার জন্য মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পেছনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি হিসেবে রয়েছে DEW NARAYANGANJ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় বোটটি আনার পর উদ্বোধনের দিনই কেবল এটি চালু করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বোটটি আর নদীতে চলতে দেখা যায়নি। বর্তমানে নদীর পাড়ের কাদামাটিতে পড়ে থাকায় বোটটির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগের সময় এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিস্তাপারের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, ‘উদ্বোধনের দিন বোটটি চলতে দেখেছি। এরপর আর চলতে দেখিনি। এখন নদী ভাঙছে, মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। এমন সময়ে উদ্ধারকারী বোটটি কাজে লাগানো দরকার।’ আরেক বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘বন্যা বা নদীভাঙনের সময় মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করতে নৌযান দরকার। সরকারি বোট যদি কাদামাটিতে পড়ে থাকে, তাহলে বিপদের সময় এটি মানুষের কী কাজে আসবে?’

বোটটির বিষয়ে জানতে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বলে জেনেছি। তবে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই নৌযান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। জেলা অফিস নৌযানটি রিসিভ করেছিল।’ রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বোটটির বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই বলে জানান। তিনি বলেন, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জামায়াতের কঠোর হুঁশিয়ারি: দিনাজপুরে বিশাল গণমিছিল

তিস্তার গ্রাস থেকে বাঁচতে পারছে না ঘরবাড়ি, উদ্ধার বোট পড়ে আছে কাদামাটিতে

আপডেট সময় : ০১:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নতুন করে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে, তখন দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য বরাদ্দ সরকারি রেসকিউ বোট পড়ে আছে নদীর পাড়ের কাদামাটিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘তিস্তা-রংপুর-২’ নামের মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি উদ্বোধনের দিন চালু করার পর আর পানিতে নামানো হয়নি। শুধু তাই নয়, বোটটির দায়িত্ব, ব্যবহার ও সংরক্ষণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তিস্তা নদীর পাড়ে কাদামাটির ওপর পড়ে রয়েছে ‘তিস্তা-রংপুর-২’ মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি। বোটটির গায়ে লেখা রয়েছে বন্যা উপদ্রুত জেলার জন্য মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পেছনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি হিসেবে রয়েছে DEW NARAYANGANJ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় বোটটি আনার পর উদ্বোধনের দিনই কেবল এটি চালু করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বোটটি আর নদীতে চলতে দেখা যায়নি। বর্তমানে নদীর পাড়ের কাদামাটিতে পড়ে থাকায় বোটটির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগের সময় এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিস্তাপারের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, ‘উদ্বোধনের দিন বোটটি চলতে দেখেছি। এরপর আর চলতে দেখিনি। এখন নদী ভাঙছে, মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। এমন সময়ে উদ্ধারকারী বোটটি কাজে লাগানো দরকার।’ আরেক বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘বন্যা বা নদীভাঙনের সময় মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করতে নৌযান দরকার। সরকারি বোট যদি কাদামাটিতে পড়ে থাকে, তাহলে বিপদের সময় এটি মানুষের কী কাজে আসবে?’

বোটটির বিষয়ে জানতে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বলে জেনেছি। তবে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই নৌযান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। জেলা অফিস নৌযানটি রিসিভ করেছিল।’ রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বোটটির বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই বলে জানান। তিনি বলেন, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়