ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

শেষ বয়সে নিজেদের পাওনা অর্থের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মানুষ গড়ার কারিগররা

সারা জীবন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার পর শেষ বয়সে এসে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীকে। চাকরিজীবনের প্রতিটি মাসে তাদের বেতন থেকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে রাখা হলেও অবসরের পর সেই টাকা পেতে তাদের এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। অনেকেই নিজেদের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না এবং সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের পাওনা অর্থ হাতে পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের কার্যালয়ে প্রতিদিন শত শত ভুক্তভোগী ভিড় করছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ভবনের ওই দুটি দপ্তরে বাবার পাওনা অবসর সুবিধার ফাইল হাতে নিয়ে দিনের পর দিন ছুটছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জারিফ হোসেন। তার বাবা আফজাল হোসেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে গেছেন বাইশ সালে। এরপর প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো কল্যাণ ট্রাস্ট বা অবসর সুবিধার কোনো অর্থ পাননি। বাবার পাওনা আদায়ের আশায় জারিফকে বারবার ইস্কাটন গার্ডেনের ওই কার্যালয়ে ছুটে আসতে হচ্ছে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যানবেইসের পুরোনো কার্যালয়েও তিনি একাধিকবার গেছেন। তিনি জানান আগে যখন এসেছিলেন তখন তাকে বলা হয়েছিল দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকে টাকা জমা হবে কিন্তু ছয় মাস পার হলেও কোনো টাকা জমা হয়নি। সবশেষ খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে বর্তমানে পেমেন্ট কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু জারিফের পরিবারের নয় হাজারো শিক্ষক পরিবারের চরম হতাশার চিত্র।

গাইবান্ধার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল আজিজ একুশ সালে অবসরে যাওয়ার পর তেইশ সালের শেষের দিকে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেলেও এখনো অবসর সুবিধার অর্থ পাননি। চব্বিশ সালে তার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকায় আসতে পারেননি। তিনি জানান এই বয়সে বারবার ঢাকায় আসা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে তা নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। সারাদেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। চাকরিজীবনে তাদের মূল বেতনের ছয় শতাংশ অবসর সুবিধার জন্য এবং চার শতাংশ কল্যাণ সুবিধার জন্য নিয়মিত কেটে রাখা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বছরে একশ টাকা নেওয়া হয় যার মধ্যে সত্তর টাকা অবসর সুবিধা এবং ত্রিশ টাকা কল্যাণ সুবিধার জন্য জমা হয়। কিন্তু অবসরের পর সেই জমাকৃত অর্থ পেতেই তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী একুশ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এরপর আবেদন করা প্রায় চৌষট্টি হাজার শিক্ষক কর্মচারী এখনো তাদের পাওনা অর্থ পাননি। ছাব্বিশ সালে এসেও বাইশ সালের জমা পড়া আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাইশ সালের মে মাস পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টের অবস্থাও প্রায় একই রকম। তেইশ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনকারীদের কল্যাণ সুবিধার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং এরপর মে মাস থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর আবেদন এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

দীর্ঘদিনের এই বিশাল সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের অবসর ভাতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য দুই হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য এক হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ দিয়ে একবারে পুরো সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। বর্তমানে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য অপেক্ষায় থাকা এক লাখ পাঁচ হাজার ছয়শ চুয়াল্লিশ জন শিক্ষক কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করতে প্রয়োজন প্রায় নয় হাজার সাতশ সাতান্ন কোটি টাকা। শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগে একটি পত্র দিয়েছেন এবং তিনি জানান শিক্ষকরা শেষ বয়সে টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন যা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন ধীরে ধীরে শিক্ষকরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

হিসাব অনুযায়ী শিক্ষক কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় তিয়াত্তর কোটি টাকা জমা হয় এবং এফডিআরের লভ্যাংশ থেকে আসে আরও প্রায় তিন কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ছিয়াত্তর কোটি টাকা জমা হলেও প্রতি মাসে জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তি করতে গড়ে একশ পঁচিশ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। ফলে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জমে থাকা আবেদন অনুযায়ী অবসর সুবিধা খাতে বর্তমানে ঘাটতি প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে ঘাটতি প্রায় দুই হাজার আটশ তেরো কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই খাতে দুই হাজার দুইশ কোটি টাকার বন্ড দেওয়া হয়েছিল যা থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দেড়শ থেকে একশ ষাট কোটি টাকা মুনাফা পাওয়ার কথা। তবে বিশাল ঘাটতির তুলনায় এই অর্থ নিতান্তই সামান্য।

শিক্ষকদের অভিযোগ আগের সরকারের আমলে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার অবসর ভাতার অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে যার ফলে আজ এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার বদলালেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনার প্রশ্নে সবসময় তহবিল নেই বা টাকা নেই অজুহাত দেখানো হয়। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধার টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে দীর্ঘদিনের এই স্থবির প্রক্রিয়া সচল করার উদ্যোগ নিলেও প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার পাওনার অপেক্ষায় থাকা লাখো শিক্ষক কর্মচারীর মনে একটাই প্রশ্ন তাদের এই অপেক্ষা আর কতদিন চলবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

৫শ মিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

শেষ বয়সে নিজেদের পাওনা অর্থের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মানুষ গড়ার কারিগররা

আপডেট সময় : ০২:১১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সারা জীবন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার পর শেষ বয়সে এসে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজারো বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীকে। চাকরিজীবনের প্রতিটি মাসে তাদের বেতন থেকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে রাখা হলেও অবসরের পর সেই টাকা পেতে তাদের এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। অনেকেই নিজেদের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না এবং সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন। আবার অনেক শিক্ষক নিজেদের পাওনা অর্থ হাতে পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনে অবস্থিত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের কার্যালয়ে প্রতিদিন শত শত ভুক্তভোগী ভিড় করছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ভবনের ওই দুটি দপ্তরে বাবার পাওনা অবসর সুবিধার ফাইল হাতে নিয়ে দিনের পর দিন ছুটছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জারিফ হোসেন। তার বাবা আফজাল হোসেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে গেছেন বাইশ সালে। এরপর প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো কল্যাণ ট্রাস্ট বা অবসর সুবিধার কোনো অর্থ পাননি। বাবার পাওনা আদায়ের আশায় জারিফকে বারবার ইস্কাটন গার্ডেনের ওই কার্যালয়ে ছুটে আসতে হচ্ছে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যানবেইসের পুরোনো কার্যালয়েও তিনি একাধিকবার গেছেন। তিনি জানান আগে যখন এসেছিলেন তখন তাকে বলা হয়েছিল দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকে টাকা জমা হবে কিন্তু ছয় মাস পার হলেও কোনো টাকা জমা হয়নি। সবশেষ খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে বর্তমানে পেমেন্ট কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু জারিফের পরিবারের নয় হাজারো শিক্ষক পরিবারের চরম হতাশার চিত্র।

গাইবান্ধার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল আজিজ একুশ সালে অবসরে যাওয়ার পর তেইশ সালের শেষের দিকে কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেলেও এখনো অবসর সুবিধার অর্থ পাননি। চব্বিশ সালে তার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকায় আসতে পারেননি। তিনি জানান এই বয়সে বারবার ঢাকায় আসা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে তা নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। সারাদেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। চাকরিজীবনে তাদের মূল বেতনের ছয় শতাংশ অবসর সুবিধার জন্য এবং চার শতাংশ কল্যাণ সুবিধার জন্য নিয়মিত কেটে রাখা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বছরে একশ টাকা নেওয়া হয় যার মধ্যে সত্তর টাকা অবসর সুবিধা এবং ত্রিশ টাকা কল্যাণ সুবিধার জন্য জমা হয়। কিন্তু অবসরের পর সেই জমাকৃত অর্থ পেতেই তাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী একুশ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এরপর আবেদন করা প্রায় চৌষট্টি হাজার শিক্ষক কর্মচারী এখনো তাদের পাওনা অর্থ পাননি। ছাব্বিশ সালে এসেও বাইশ সালের জমা পড়া আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাইশ সালের মে মাস পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টের অবস্থাও প্রায় একই রকম। তেইশ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনকারীদের কল্যাণ সুবিধার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং এরপর মে মাস থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর আবেদন এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

দীর্ঘদিনের এই বিশাল সংকট নিরসনের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের অবসর ভাতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং নতুন অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য দুই হাজার কোটি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য এক হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ দিয়ে একবারে পুরো সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়। বর্তমানে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য অপেক্ষায় থাকা এক লাখ পাঁচ হাজার ছয়শ চুয়াল্লিশ জন শিক্ষক কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করতে প্রয়োজন প্রায় নয় হাজার সাতশ সাতান্ন কোটি টাকা। শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগে একটি পত্র দিয়েছেন এবং তিনি জানান শিক্ষকরা শেষ বয়সে টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন যা অত্যন্ত অমানবিক। তিনি আশা প্রকাশ করেন ধীরে ধীরে শিক্ষকরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

হিসাব অনুযায়ী শিক্ষক কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় তিয়াত্তর কোটি টাকা জমা হয় এবং এফডিআরের লভ্যাংশ থেকে আসে আরও প্রায় তিন কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ছিয়াত্তর কোটি টাকা জমা হলেও প্রতি মাসে জমা পড়া আবেদন নিষ্পত্তি করতে গড়ে একশ পঁচিশ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। ফলে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জমে থাকা আবেদন অনুযায়ী অবসর সুবিধা খাতে বর্তমানে ঘাটতি প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে ঘাটতি প্রায় দুই হাজার আটশ তেরো কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই খাতে দুই হাজার দুইশ কোটি টাকার বন্ড দেওয়া হয়েছিল যা থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দেড়শ থেকে একশ ষাট কোটি টাকা মুনাফা পাওয়ার কথা। তবে বিশাল ঘাটতির তুলনায় এই অর্থ নিতান্তই সামান্য।

শিক্ষকদের অভিযোগ আগের সরকারের আমলে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার অবসর ভাতার অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে যার ফলে আজ এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার বদলালেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনার প্রশ্নে সবসময় তহবিল নেই বা টাকা নেই অজুহাত দেখানো হয়। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী শিক্ষক কর্মচারীদের অবসর সুবিধার টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে দীর্ঘদিনের এই স্থবির প্রক্রিয়া সচল করার উদ্যোগ নিলেও প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার পাওনার অপেক্ষায় থাকা লাখো শিক্ষক কর্মচারীর মনে একটাই প্রশ্ন তাদের এই অপেক্ষা আর কতদিন চলবে।