ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়েও যুদ্ধ-সংকটে ইরান: ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজের অপ্রত্যাশিত, আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করেন এবং একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তুলে ধরেন। তার এই মানসিকতা শত্রু ও মিত্র উভয় পক্ষকেই হতচকিত করে রাখে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন তার প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, তিনি এমন একটি যুদ্ধে আটকে গেছেন যেখান থেকে বের হওয়ার পথ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি তার ক্ষমতার এমন সীমাবদ্ধতা আবিষ্কার করেছেন, যা তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ অভিযান শুরু করার সময় কল্পনাও করতে পারেননি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা ও দেশটির সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাস পরও তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়নি। ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও ইরানকে কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি তিনি। ফলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প এখন দ্বিধায় রয়েছেন। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত কমে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরেও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে তার রাজনৈতিক মিত্রদের একটি অংশ দ্রুত সংঘাত শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেও ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। প্রথমে ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৮ মাস ধরে আলোচনার পর হওয়া এই চুক্তিকে ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেয় এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষেতলালে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে কৃষকদের বাম্পার ফলন ও লাভ

সর্বাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়েও যুদ্ধ-সংকটে ইরান: ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজের অপ্রত্যাশিত, আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করেন এবং একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে তুলে ধরেন। তার এই মানসিকতা শত্রু ও মিত্র উভয় পক্ষকেই হতচকিত করে রাখে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন তার প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, তিনি এমন একটি যুদ্ধে আটকে গেছেন যেখান থেকে বের হওয়ার পথ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি তার ক্ষমতার এমন সীমাবদ্ধতা আবিষ্কার করেছেন, যা তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ অভিযান শুরু করার সময় কল্পনাও করতে পারেননি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা ও দেশটির সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। কিন্তু পাঁচ মাস পরও তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়নি। ব্যাপক সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও ইরানকে কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি তিনি। ফলে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প এখন দ্বিধায় রয়েছেন। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত কমে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরেও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলছেন, অন্যদিকে তার রাজনৈতিক মিত্রদের একটি অংশ দ্রুত সংঘাত শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কেও ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। প্রথমে ট্রাম্পের জ্বালানিমন্ত্রী সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ১৮ মাস ধরে আলোচনার পর হওয়া এই চুক্তিকে ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং ঘোষণা দেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেয় এবং ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না।