ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

শেয়ার জালিয়াতি মামলায় পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দুর্নীতি, প্রতারণা, প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ মামলার আসামি হয়েছেন পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এই মামলায় তার সঙ্গে আরো ১৯ জন অভিযুক্ত রয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ গত ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি আমলে নেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সোমবার মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।

মামলার এজাহারে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন নামে। তাকে এজাহারের ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে যে তিনি এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের দ্বারা যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক। পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই মামলার আসামি কি না, এই পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। আদালতের কর্মকর্তা, এমনকি আইনজীবীও নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেননি তিনি পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি। তবে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ জানিয়েছেন, তিনিই পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মামলার এজাহারে ১২ নম্বর আসামি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই রাষ্ট্রপতি কি না, আমার জানা নেই। আমি ব্যাংকের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা ফাইলিং করেছি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে, তা ধরেই মামলা ফাইলিং করা হয়েছে।’ এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষেতলালে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে কৃষকদের বাম্পার ফলন ও লাভ

শেয়ার জালিয়াতি মামলায় পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দুর্নীতি, প্রতারণা, প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ মামলার আসামি হয়েছেন পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এই মামলায় তার সঙ্গে আরো ১৯ জন অভিযুক্ত রয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ গত ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি আমলে নেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সোমবার মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।

মামলার এজাহারে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পরিচয় দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন নামে। তাকে এজাহারের ১২ নম্বর আসামি করা হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে যে তিনি এস আলম ও আবদুল ওয়াহেদের দ্বারা যোগসাজশে নির্বাচিত পরিচালক। পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই মামলার আসামি কি না, এই পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। আদালতের কর্মকর্তা, এমনকি আইনজীবীও নিশ্চিত হয়ে বলতে পারেননি তিনি পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি। তবে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদ জানিয়েছেন, তিনিই পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মামলার এজাহারে ১২ নম্বর আসামি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই রাষ্ট্রপতি কি না, আমার জানা নেই। আমি ব্যাংকের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা ফাইলিং করেছি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে, তা ধরেই মামলা ফাইলিং করা হয়েছে।’ এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল।