ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ঠিকাদারের টাকায় চসিক কর্মকর্তাদের সুইডেন সফর বাতিল: গণসমালোচনা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ

ঠিকাদারের অর্থে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচ কর্মকর্তার পরিকল্পিত সুইডেন সফর বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সফরটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিটি করপোরেশন-১) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রোববার রাতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নথি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রোলার চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে’ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনজন কর্মকর্তা ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সুইডেন সফরের অনুমতি পেয়েছিলেন। এই সফরের ব্যয়ভার বহন করার কথা ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবির আহমেদের, যারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে পাঁচটি ডাবল ড্রাম রোড রোলার সরবরাহ করেছিল।

গত ৬ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত আদেশে সফরকারীদের তালিকায় ছিলেন—স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, চসিকের সচিব আশরাফুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ ইমরান হোছাইন খোকা।

চসিক সূত্রমতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোলার সরবরাহের মাত্র চার মাস পর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, রোলার সরবরাহের সাত দিনের মধ্যে চট্টগ্রামেই একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রতিটি রোলারের চালকদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল, যার মোট ব্যয়ভার ঠিকাদার বহন করবে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বিতর্ক আরও উসকে দেয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রা নীতি বহির্ভূত এবং এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করে। উল্লেখ্য, এর আগেও মশা নিধনের উপর প্রশিক্ষণের জন্য ঠিকাদারের অর্থায়নে চসিক কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আয়োজন করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতিতে চাপের শঙ্কা: নতুন বেতন কাঠামো দুই বছর পেছানোর পরামর্শ আইএমএফের

ঠিকাদারের টাকায় চসিক কর্মকর্তাদের সুইডেন সফর বাতিল: গণসমালোচনা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৯:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ঠিকাদারের অর্থে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পাঁচ কর্মকর্তার পরিকল্পিত সুইডেন সফর বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সফরটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিটি করপোরেশন-১) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রোববার রাতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত নথি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রোলার চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে’ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনজন কর্মকর্তা ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সুইডেন সফরের অনুমতি পেয়েছিলেন। এই সফরের ব্যয়ভার বহন করার কথা ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবির আহমেদের, যারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে পাঁচটি ডাবল ড্রাম রোড রোলার সরবরাহ করেছিল।

গত ৬ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত আদেশে সফরকারীদের তালিকায় ছিলেন—স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, চসিকের সচিব আশরাফুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ ইমরান হোছাইন খোকা।

চসিক সূত্রমতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোলার সরবরাহের মাত্র চার মাস পর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, রোলার সরবরাহের সাত দিনের মধ্যে চট্টগ্রামেই একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রতিটি রোলারের চালকদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল, যার মোট ব্যয়ভার ঠিকাদার বহন করবে। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত বিতর্ক আরও উসকে দেয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রা নীতি বহির্ভূত এবং এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করে। উল্লেখ্য, এর আগেও মশা নিধনের উপর প্রশিক্ষণের জন্য ঠিকাদারের অর্থায়নে চসিক কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আয়োজন করা হয়েছিল।