ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড় ধরনের আইনি অগ্রগতি হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরপরই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন।

আজ সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুপুরে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়া তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, পুলিশের একাধিক সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিক।

মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী রয়েছেন। গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপাসহ মোট ৯ জন। তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে হাজির করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

প্রসিকিউশন তদন্তের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ চলাকালে ও পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য তাদের হস্তগত হয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকীদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ এবং সার্বিক ঘটনার বিশদ তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কিত ফাইনালের পর অবসরে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০১:০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড় ধরনের আইনি অগ্রগতি হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে উত্থাপিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরপরই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন।

আজ সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুপুরে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এছাড়া তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, পুলিশের একাধিক সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিক।

মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউশন দল জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী রয়েছেন। গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপাসহ মোট ৯ জন। তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে হাজির করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

প্রসিকিউশন তদন্তের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ চলাকালে ও পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য তাদের হস্তগত হয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিক ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকীদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ এবং সার্বিক ঘটনার বিশদ তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।