২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছিল, সেই ম্যাচ পরিচালনা করা স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ তার দীর্ঘ রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র এক সপ্তাহ পরই ৪৬ বছর বয়সী এই ফিফা কর্মকর্তা অবসরের ঘোষণা দেন। স্লোভেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচে ভিনচিচের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি পাঁচটি হলুদ কার্ড ও একটি লাল কার্ড দেখান, যার সবকটিই পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং কয়েকটি ফাউলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন সমর্থক ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
আর্জেন্টিনার জন্য ভিনচিচ যেন এক ‘অপয়া’ রেফারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কারণ, গত দুটি বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের মাত্র দুটি হার—২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে দুটি ম্যাচেই প্রধান রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ভিনচিচ।
২০১০ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর স্লাভকো ভিনচিচ ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ক্লাব ফুটবলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ২০২২ সালের উয়েফা ইউরোপা লিগের ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও তিনি প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান ভিনচিচ। সেই আসরে তিনি সৌদি আরবের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক হারসহ মোট দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনালসহ তিনি মোট চারটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন।
এই বিশ্বকাপে ভিনচিচ মোট ১২টি হলুদ কার্ড ও দুটি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। তার দেওয়া প্রথম লাল কার্ডটিও বেশ আলোচিত ছিল। শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনায় ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
দীর্ঘ দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইউরোপের প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করা ভিনচিচের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল বিশ্বকাপের সেই ফাইনাল। বিতর্ক থাকলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বাঁশি বাজিয়েই রেফারিং জীবনের ইতি টানলেন স্লোভেনিয়ার এই অভিজ্ঞ ম্যাচ কর্মকর্তা।
রিপোর্টারের নাম 























