ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ তৈরি করে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আফ্রিকার কোনো দেশে বা অন্য কোনো তৃতীয় দেশে অস্থায়ীভাবে রাখার পরিকল্পনা করছে ইউরোপের পাঁচ দেশ—জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি নাগরিকসহ যাদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে, তাঁদের চূড়ান্ত প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে আফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া বা উজবেকিস্তানের মতো কোনো তৃতীয় দেশে রাখা হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশনকে ভিত্তি করে পরিচালিত এই উদ্যোগে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে গ্রিস। সংস্থাটি চলতি বছরের মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করে আগামী বছর থেকে রিটার্ন হাব চালু করার আশা প্রকাশ করছে। মূলত যাদের সরাসরি ও দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায় না, তাঁদের এখানে রাখা হবে। ইইউএএ-এর পরিসংখ্যান মতে, ২০২৫ সালে ৩৬,৯০১ জন বাংলাদেশি ইউরোপে আশ্রয় আবেদন করেন, যেখানে প্রথম ধাপে অনুমোদনের হার ছিল মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ। ফলে আবেদন বাতিলের বিপুল চাপের কারণেই এই কঠোর নীতি বাস্তবায়নে এগোচ্ছে ইউরোপ।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, এই বিষয়ে বাংলাদেশকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, কারণ বিষয়টি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নীতিগত পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান থাকায় বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার যৌক্তিকতা নেই। অপরদিকে, রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকীসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইউরোপের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন ও মানবাধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক এবং মানবিক নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি বলে মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























