ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

যমুনার গ্রাসে গাইবান্ধার প্রাথমিক বিদ্যালয়: ভাঙনের মুখে ১১ বার স্থান পরিবর্তন

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ২০ বছরে ১১ বার যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। সর্বশেষ ২২ জুলাই নদী ভাঙনের মুখে পড়ায় বিদ্যালয়টির স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বারবার স্থান পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত এই অনিশ্চয়তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রায় ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি একসময় বহু শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের শিকার হয়ে আসছে এটি। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১০ বার ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি তার বর্তমান অবস্থানে আসতে হয়েছে। এর ফলে পূর্বে যেখানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭ জনে।

বারবার স্থানান্তরের কারণে সরকারিভাবে বিদ্যালয়টির জন্য কোনো স্থায়ী ও উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। টিনের চাল, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কোনোমতে তৈরি করা হয়েছে শ্রেণিকক্ষ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নদী এলাকা হওয়ায় পানি ও বালু পেরিয়ে ক্লাসে যেতে হয়, তার ওপর বিদ্যালয়ের এই ভগ্নদশা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। অভিভাবকরা জানান, চরের শিশুদের এমনিতেই অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়তে হয়, তার ওপর নদী ভাঙনের এই নিয়মিত সমস্যা তাদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করাকেও কঠিন করে তুলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পায়রা সেতুতে টোল কালেক্টরের রহস্যময় মৃত্যু

যমুনার গ্রাসে গাইবান্ধার প্রাথমিক বিদ্যালয়: ভাঙনের মুখে ১১ বার স্থান পরিবর্তন

আপডেট সময় : ১২:২৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ২০ বছরে ১১ বার যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। সর্বশেষ ২২ জুলাই নদী ভাঙনের মুখে পড়ায় বিদ্যালয়টির স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বারবার স্থান পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত এই অনিশ্চয়তা শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রায় ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি একসময় বহু শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের শিকার হয়ে আসছে এটি। ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১০ বার ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি তার বর্তমান অবস্থানে আসতে হয়েছে। এর ফলে পূর্বে যেখানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৭ জনে।

বারবার স্থানান্তরের কারণে সরকারিভাবে বিদ্যালয়টির জন্য কোনো স্থায়ী ও উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। টিনের চাল, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কোনোমতে তৈরি করা হয়েছে শ্রেণিকক্ষ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নদী এলাকা হওয়ায় পানি ও বালু পেরিয়ে ক্লাসে যেতে হয়, তার ওপর বিদ্যালয়ের এই ভগ্নদশা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। অভিভাবকরা জানান, চরের শিশুদের এমনিতেই অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়তে হয়, তার ওপর নদী ভাঙনের এই নিয়মিত সমস্যা তাদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করাকেও কঠিন করে তুলছে।