বীমা পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে জমাকৃত টাকা বা মূল পুঁজি ফেরত না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ‘বায়রা লাইফ ইনস্যুরেন্স’-এর অসংখ্য গ্রাহক। পলিসির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কোম্পানির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। ফলে বীমার নাম শুনলেই ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে উঠছেন। কেবল বায়রা লাইফ নয়, একই রকম নাজুক পরিস্থিতি আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠানের, যা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) লাল তালিকাভুক্ত। এই সাতটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬৫ লাখ পলিসি বিচারাধীন রয়েছে এবং মোট দাবির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
কুমিল্লার নুরজাহান বেগম, যার পলিসির মেয়াদ ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার পরও তিনি তার জমাকৃত এক লাখ টাকা ফেরত পাননি। পেশায় গৃহিণী নুরজাহান এখন তার আত্মীয়ের মাধ্যমে খোঁজ নিচ্ছেন যে তিনি জীবিত অবস্থায় তার সঞ্চিত টাকা ফেরত পাবেন কিনা। বুলবুল নামে তার এক আত্মীয় জানান, ২০২২ সালের পর তিনি দ্বিতীয়বার বায়রা অফিসে এসেছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেবল ‘টাকা নেই’ বলে পুরনো গল্প শোনাচ্ছে এবং জমি বিক্রি করে টাকা পরিশোধের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করছে।
একইভাবে নোয়াখালীর নুরুন্নবী প্রবাসের উপার্জিত টাকা দিয়ে বায়রা লাইফে দুটি পলিসি খুলেছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে দুই জোড়া জুতা ক্ষয় করেছেন, কিন্তু বায়রা লাইফ ইনস্যুরেন্স আজও টাকা ফেরত দেয়নি। আলমগীর নামে আরেক ভুক্তভোগী ১ লাখ ৪ হাজার টাকার চেকলিস্ট (নম্বর-২৫৩) হাতে নিয়ে সাত বছর ধরে এখানে এসে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ফাঁদে পড়ে শেষ হয়ে গেছেন বলে জানান। রাজধানী ফকিরাপুলের একটি দোকানে কর্মরত বেলালও ১০ বছর মেয়াদি তার বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত না পেয়ে হতাশ হয়ে অফিসে এসেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























