ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গ্রেপ্তার হওয়া সমন্বয়কদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নতুন গতি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এর পূর্বে দ্বিতীয় দফায় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই পদক্ষেপ কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন গতি এনেছে।

ডিবির তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জুনায়েদ আলম সরকার জানিয়েছিলেন যে, গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সহিংসতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে এই পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় পাঁচ সমন্বয়কের আটকের ঘটনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই বিকালে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’-এর একটি প্রতিনিধিদল ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে তাদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তারা ডিবিপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষকরা কঠোর অবস্থান নেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গভীর রাতে হাতিরঝিলের বাসা থেকে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকেও আটক করা হয়।

শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ছাত্র সংগঠনগুলো দেশব্যাপী প্রতিবাদ আন্দোলন অব্যাহত রাখে। জুলাইয়ের শেষভাগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন ও সহিংসতা তীব্র হয়ে ওঠে। গত ২৭ জুলাই রাত পর্যন্ত কোটা আন্দোলনের সময় সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সারা দেশে ৭৩৬টির বেশি মামলা হয়। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই মামলা হয় ২০৭টি। ঢাকাতে গ্রেপ্তার হয় ২ হাজার ৫৩৬ জন। এর বাইরে র‌্যাবের অভিযানে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন ৭১ জন। সব মিলিয়ে সারা দেশে গ্রেপ্তার সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। ঢাকাসহ সারা দেশে যেসব মামলা হয় তার বেশিরভাগ মামলার বাদী পুলিশ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে ডিবিতে রেখে আন্দোলন বন্ধে চাপ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কোটা সংস্কার করে আদালতের রায়ের পর প্রজ্ঞাপন জারির দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতিতে চাপের শঙ্কা: নতুন বেতন কাঠামো দুই বছর পেছানোর পরামর্শ আইএমএফের

গ্রেপ্তার হওয়া সমন্বয়কদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নতুন গতি

আপডেট সময় : ০৯:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এর পূর্বে দ্বিতীয় দফায় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তিন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদারকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই পদক্ষেপ কোটা সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন গতি এনেছে।

ডিবির তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জুনায়েদ আলম সরকার জানিয়েছিলেন যে, গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সহিংসতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে এই পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় পাঁচ সমন্বয়কের আটকের ঘটনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই বিকালে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’-এর একটি প্রতিনিধিদল ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে তাদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তারা ডিবিপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি।

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষকরা কঠোর অবস্থান নেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গভীর রাতে হাতিরঝিলের বাসা থেকে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকেও আটক করা হয়।

শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ছাত্র সংগঠনগুলো দেশব্যাপী প্রতিবাদ আন্দোলন অব্যাহত রাখে। জুলাইয়ের শেষভাগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন ও সহিংসতা তীব্র হয়ে ওঠে। গত ২৭ জুলাই রাত পর্যন্ত কোটা আন্দোলনের সময় সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সারা দেশে ৭৩৬টির বেশি মামলা হয়। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই মামলা হয় ২০৭টি। ঢাকাতে গ্রেপ্তার হয় ২ হাজার ৫৩৬ জন। এর বাইরে র‌্যাবের অভিযানে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন ৭১ জন। সব মিলিয়ে সারা দেশে গ্রেপ্তার সাত হাজার ছাড়িয়ে যায়। ঢাকাসহ সারা দেশে যেসব মামলা হয় তার বেশিরভাগ মামলার বাদী পুলিশ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে ডিবিতে রেখে আন্দোলন বন্ধে চাপ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কোটা সংস্কার করে আদালতের রায়ের পর প্রজ্ঞাপন জারির দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের।