ঢাকা ১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ইরানে হামলা জোরদার পরিকল্পনার মাঝে ট্রাম্পের সামনেই ভ্যান্স ও কেইনের উদ্বেগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা আরো জোরদার করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। তবে, বৈঠকে উপস্থিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধের বিস্তৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা, অভিযান আরো জোরদার হলে তা একটি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এই তথ্য সিএনএন-এর একটি সূত্র এবং একজন আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একটানা ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর, শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো আমেরিকা বোমা হামলা স্থগিত করে। শনিবার পেন্টাগনের একটি সূত্র সিএনএন-কে জানায়, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আমেরিকার অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন করে বড় আকারের হামলা চালানো সম্ভব হলেও এতে আমেরিকান বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উভয় সূত্রই নিশ্চিত করেছে যে, বৈঠকে ট্রাম্পের কাছে উত্থাপিত উদ্বেগের মধ্যে অস্ত্রের মজুত সংক্রান্ত বিষয়টি অন্যতম। তবে, ইরানে রাতের হামলা স্থগিত করার পেছনে অস্ত্রের মজুত স্বল্পতা নাকি যুদ্ধ আরো তীব্র করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বা আমেরিকার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে সব ধরনের বিকল্প খোলা থাকবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সফল নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩ দিন ধরে হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য একটি সমঝোতামূলক চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়াই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে সিএনএন-এর অপর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আরো কমবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব অর্থনীতিতে সেমিকন্ডাক্টরের রাজত্ব এবং বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা

ইরানে হামলা জোরদার পরিকল্পনার মাঝে ট্রাম্পের সামনেই ভ্যান্স ও কেইনের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা আরো জোরদার করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। তবে, বৈঠকে উপস্থিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধের বিস্তৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা, অভিযান আরো জোরদার হলে তা একটি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এই তথ্য সিএনএন-এর একটি সূত্র এবং একজন আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একটানা ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর, শুক্রবার রাতে প্রথমবারের মতো আমেরিকা বোমা হামলা স্থগিত করে। শনিবার পেন্টাগনের একটি সূত্র সিএনএন-কে জানায়, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আমেরিকার অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন করে বড় আকারের হামলা চালানো সম্ভব হলেও এতে আমেরিকান বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উভয় সূত্রই নিশ্চিত করেছে যে, বৈঠকে ট্রাম্পের কাছে উত্থাপিত উদ্বেগের মধ্যে অস্ত্রের মজুত সংক্রান্ত বিষয়টি অন্যতম। তবে, ইরানে রাতের হামলা স্থগিত করার পেছনে অস্ত্রের মজুত স্বল্পতা নাকি যুদ্ধ আরো তীব্র করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বা আমেরিকার মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে সব ধরনের বিকল্প খোলা থাকবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সফল নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেহরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩ দিন ধরে হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য একটি সমঝোতামূলক চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়াই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে সিএনএন-এর অপর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আরো কমবে।