ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সরকারি ভবন ভাঙচুর ও মালামাল বিক্রিতে ইউএনও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে ফেলা এবং এর মালামাল সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া, দরপত্র আহ্বান, নিলাম বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার বিধান অনুসরণ না করেই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালামাল বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের বিরুদ্ধে। তবে, তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ‘পায়রা ভবন’ নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও কারুকাজ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিনে ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ভবনটির অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি ভবন অপসারণের আগে সেটিকে পরিত্যক্ত (কনডেমনড) ঘোষণা করতে হয়। এর জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কনডেমনেশন কমিটির সুপারিশ, মূল্য নির্ধারণ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, উন্মুক্ত দরপত্র এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের একটি কনডেমনেশন কমিটি গঠন করেন এবং কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনও করে। তবে, পরবর্তী কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির কারণে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। এদিকে, উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবনটির মালামালের মূল্য চার লাখ ১৪ হাজার ৫০৪ টাকা এবং ভাঙার ব্যয় দুই লাখ ৬৫ হাজার চার টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই হিসাবে অন্তত এক লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা সর্বনিম্ন দর ধরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সুযোগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নাছরীন আক্তার ২০২৫ সালের আগস্টে দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ভবনটি ভাঙার বিষয়ে উদ্যোগ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে সামরিক পদক্ষেপ নেবে না সিরিয়া, সম্পর্ক হবে আইনের ভিত্তিতে: প্রেসিডেন্ট আল-শারা

সরকারি ভবন ভাঙচুর ও মালামাল বিক্রিতে ইউএনও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ‘পায়রা ভবন’ ভেঙে ফেলা এবং এর মালামাল সরকারি বিধি অনুসরণ না করেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া, দরপত্র আহ্বান, নিলাম বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার বিধান অনুসরণ না করেই ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালামাল বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের বিরুদ্ধে। তবে, তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ‘পায়রা ভবন’ নব্বইয়ের দশকে নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও কারুকাজ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিনে ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর ভবনটির অবকাঠামো অক্ষত থাকলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, কোনো সরকারি ভবন অপসারণের আগে সেটিকে পরিত্যক্ত (কনডেমনড) ঘোষণা করতে হয়। এর জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কনডেমনেশন কমিটির সুপারিশ, মূল্য নির্ধারণ, নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, উন্মুক্ত দরপত্র এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা ইসলাম ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যের একটি কনডেমনেশন কমিটি গঠন করেন এবং কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনও করে। তবে, পরবর্তী কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির কারণে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। এদিকে, উপজেলা প্রকৌশল অফিস ভবনটির মালামালের মূল্য চার লাখ ১৪ হাজার ৫০৪ টাকা এবং ভাঙার ব্যয় দুই লাখ ৬৫ হাজার চার টাকা নির্ধারণ করেছিল। সেই হিসাবে অন্তত এক লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা সর্বনিম্ন দর ধরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির সুযোগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার ফলে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নাছরীন আক্তার ২০২৫ সালের আগস্টে দাউদকান্দিতে যোগদানের পর ভবনটি ভাঙার বিষয়ে উদ্যোগ নেন।