ভারতের তরুণ নেতৃত্বের ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কর্তৃক আয়োজিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পাঁচ সপ্তাহের বিক্ষোভের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি বিরল সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওতে তিনি বিক্ষোভকারীদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এই ভিডিও অবশ্য দিল্লিতে জড়ো হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আগের দিন তারা পুলিশের বাধা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে অবস্থান ধরে রেখেছিল। তাদের আন্দোলন দেশজুড়ে বিক্ষোভের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শনিবার বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন, যা মোদির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সিজেপির জন্য এক বড় বিজয় এনে দিয়েছে। সংগঠনটির তরুণ সমর্থকরা র্যাপ, প্ল্যাকার্ড ও গ্রাফিতির মাধ্যমে প্রকাশ্যে মোদিকে ব্যঙ্গ করেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও এমন ঘটনা মানুষের চিন্তার বাইরে ছিল।
ব্রিটেনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় শ্রীবাস্তব রয়টার্সকে বলেন, ‘বিক্ষোভের মধ্যে থাকা বড় একটি অংশ আসলে তার সমর্থক এবং অতীতের অন্য সব বিক্ষোভ থেকে এটি আলাদা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিজয়ের একটি বড় ব্যাখ্যা হতে পারে যে, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। জাতি-গোষ্ঠী-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ দেশের জন্য ক্ষমতাসীন দল অপরিহার্যভাবে ভালো—এই ধারণাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে।’
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে বিক্ষোভ শুরু হলেও, বিশেষ করে তরুণদের বেকারত্ব এবং তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া সহ অন্যান্য অনেক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ তিওয়ারি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস মূলত সূচনা বিন্দু। এটি তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অসন্তোষ, হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।’
ভারতে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর, কিন্তু পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এ বয়সের প্রতিনিধি মাত্র ১০ শতাংশ। তিওয়ারি জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স ৬০ বছরের বেশি। যদিও সিজেপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবে মোদির বিরুদ্ধে তাদের এই জয় থেকে বিরোধীরা সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে। আগামী বছর ভারতের জনবহুল উত্তরপ্রদেশ এবং পাঞ্জাব রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রিপোর্টারের নাম 




















