বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রপ্তানি আয়ের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই অর্থবছরে মোট ৬৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫.২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮.২ বিলিয়ন ডলার অর্জনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনার জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বছরই আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং আগের ১০ শতাংশ শুল্কই বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























