ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তিস্তা ভাঙন রোধে পাউবো ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে সুরক্ষার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন তিস্তা তীরবর্তী এলাকার শতাধিক বাসিন্দা। তারা দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন এলাকায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন গঙ্গাচড়া উপজেলার লোহানী ইউনিয়নের বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চরসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাগডহরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠান করেছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু সামান্য কিছু জায়গা দেখে চলে যায়। মানুষের বাড়িঘর, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। নিজের টাকায় রাস্তা করেছি, সেটাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি হারিয়ে আমরা কীভাবে সংসার চালাব, সন্তানদের পড়াশোনা করাব?” তিনি আরও যোগ করেন, “তিস্তা নদী যদি সঠিকভাবে শাসন করা হতো, তাহলে চরাঞ্চলের মানুষের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী ইনতাজ আলী বলেন, “আমি সাবেক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। আমার বাড়ি এ পর্যন্ত ২৮ বার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আর কোথায় ঘর বানাব, কোথায় থাকব—তার কোনো উপায় নেই।”

বাগডহরা এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, “নদী ভাঙনের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্য এলাকায় ধানের আবাদ শুরু হলেও আমরা ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষা করতেই ব্যস্ত। বাঁধের পাশাপাশি বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”

বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন অভিযোগ করেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা এবং ঠিকাদার নিয়োগের কথা থাকলেও বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে নদী ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম বাজেট ঘোষণা: ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার প্রস্তাব

তিস্তা ভাঙন রোধে পাউবো ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৭:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে সুরক্ষার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন তিস্তা তীরবর্তী এলাকার শতাধিক বাসিন্দা। তারা দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন এলাকায় অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন গঙ্গাচড়া উপজেলার লোহানী ইউনিয়নের বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চরসহ তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বাগডহরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীন। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠান করেছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু সামান্য কিছু জায়গা দেখে চলে যায়। মানুষের বাড়িঘর, আবাদি জমি নদীতে বিলীন হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। নিজের টাকায় রাস্তা করেছি, সেটাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আবাদি জমি হারিয়ে আমরা কীভাবে সংসার চালাব, সন্তানদের পড়াশোনা করাব?” তিনি আরও যোগ করেন, “তিস্তা নদী যদি সঠিকভাবে শাসন করা হতো, তাহলে চরাঞ্চলের মানুষের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

একই এলাকার ৭৫ বছর বয়সী ইনতাজ আলী বলেন, “আমি সাবেক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। আমার বাড়ি এ পর্যন্ত ২৮ বার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আর কোথায় ঘর বানাব, কোথায় থাকব—তার কোনো উপায় নেই।”

বাগডহরা এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, “নদী ভাঙনের কারণে আমাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্য এলাকায় ধানের আবাদ শুরু হলেও আমরা ঘরবাড়ি ও জমি রক্ষা করতেই ব্যস্ত। বাঁধের পাশাপাশি বসতভিটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।”

বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন অভিযোগ করেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা এবং ঠিকাদার নিয়োগের কথা থাকলেও বাগডহরা, নোহালী, বিনবিনা ও মটুকপুর চর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে নদী ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।