নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এই নিয়োগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি চরম হুমকি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ভিত্তি হলো শতভাগ নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সম্প্রতি এই পদে মো. সামসুল আলমের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং অবসরের পর বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া জনগণের আস্থার প্রতি প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, পেশাগত জীবনে বঞ্চনার শিকার হলে বিধি মোতাবেক পদোন্নতি বা পাওনা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, অবসরের পর প্রত্যক্ষ বিএনপির রাজনীতিতে জড়ানো একজন ব্যক্তিকে পুনরায় এই স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় অতিরিক্ত সচিবের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে। যিনি এতদিন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিলেন, তার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিত্বের এই বিতর্কিত নিয়োগকে বিএনপির অফিসিয়াল মিডিয়া সেল থেকে রীতিমতো উৎসব মুখর পরিবেশে প্রচার ও উদযাপন করা হচ্ছে। এটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় বিএনপির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চক্রান্ত চলছে।
অবিলম্বে এই বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 





















