বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন, সম্প্রসারণ, স্থানান্তর, ভাড়া ও ইজারা গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশিকা শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার ভারসাম্য আনয়ন, অপ্রয়োজনীয় শাখা সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে।
রোববার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে ‘ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর, ভাড়া/ইজারা গ্রহণ ও চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারির পূর্ববর্তী নির্দেশনা বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সাপেক্ষে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যাবে। প্রথমবারের মতো, প্রধান কার্যালয় স্থাপন ও সম্প্রসারণের জন্য বিস্তারিত নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় নিবন্ধিত ঠিকানায় স্থাপন করতে হবে এবং প্রয়োজনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে। প্রধান কার্যালয়ের ভবন বা অফিসের আয়তন নির্ধারণে জনবল, অধীনস্থ বিভাগের সংখ্যা, ব্যবসার পরিধি এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হবে। অপ্রয়োজনীয় অফিস স্পেস এবং বিলাসী অবকাঠামো নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। নতুন প্রধান কার্যালয় বা বিভাগ স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত অফিস স্পেস, প্রতি কর্মীর জন্য বরাদ্দ জায়গা, জনবল এবং সাংগঠনিক কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
অফিস ভাড়া বা ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন ভবন ভাড়া বা ইজারা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা, ভাড়ার পরিমাণ, সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট-ট্যাক্স, ইউটিলিটি বিল, চুক্তির মেয়াদ, ভাড়া বৃদ্ধির হার এবং ভবনের বয়সসহ বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। নতুন স্থানে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইন্টেরিয়র, আসবাবপত্র, স্থানান্তর ব্যয় এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবও জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে, ভাড়া বা ইজারা চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রেও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















