শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে চুরির অপবাদে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর ছেলে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদে মধ্যবয়সী নারীকে জনসম্মুখে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছয়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার গায়েব হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার এলাকার আবুল শেখের স্ত্রী নারগিস বেগমকে ধরে নিয়ে যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা। পরে তাকে দুই হাত ধরে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে পেটায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি হামলাকারীদের নির্যাতন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই নারীর দুই হাত ধরে রেখেছেন দুই ব্যক্তি। আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। এসময় তিনি চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আবার তুলে মারধর করা হয়। নারগিস বেগম বলেন, তারা আমাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আমাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে গোলাম রাব্বি বলেন, আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। আমার এক ভাই প্রবাসে থাকেন। বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার মাকে অনেক মারধর করেছে। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি তার বিচার চাই। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, খবর পেয়ে আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রিপোর্টারের নাম 



















