যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডাকযোগে (মেইল-ইন) ভোটের নিয়ম কঠোর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা কার্যকর করার অনুমতি দেয়নি একটি ফেডারেল আপিল আদালত। শনিবার বোস্টনভিত্তিক প্রথম ইউএস সার্কিট কোর্ট অব অ্যাপিলস ২-১ ভোটের ব্যবধানে বিচারকদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দেয়। নিম্ন আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা চলাকালীন তা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল মার্কিন বিচার বিভাগ।
এর আগে গত ২৫ জুন মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ইন্দিরা তালওয়ানি এই স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, গত মার্চে দেওয়া ট্রাম্পের ওই নির্দেশের বেশ কয়েকটি অংশ সম্ভবত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করছে। ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নেভাডা ও ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এই মামলা দায়ের করে।
বিচার বিভাগের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনো নীতিমালা চূড়ান্ত করেনি। তাই মামলাটি সময়ের আগেই করা হয়েছে। তবে আপিল আদালত সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরের নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় অঙ্গরাজ্যগুলোকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। ফলে তারা আদেশের প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নির্বাহী আদেশে এমন একাধিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোকে দ্রুত ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন ভোটিং বিধি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এখন ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করতে পারে।
ফেডারেল নির্বাচন নীতি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে গত মার্চে এই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বারবার ডাকযোগে ভোটিং পদ্ধতির সমালোচনা করে আসছেন এবং কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই টানা দাবি করে যাচ্ছেন যে—২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কারণেই তার পরাজয় হয়েছিল। তবে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচন পরিচালনার মূল ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতেই ন্যস্ত।
রিপোর্টারের নাম 





















