ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারেন বাংলাদেশিরা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির ওপর নজর রেখে প্রতিবছর বিশ্ব পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংস্থাটি শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটিতে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার সাথে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে।

সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সীমিত সংখ্যক দেশে আগাম দূতাবাসের ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। এসব সুবিধা মূলত চার ধরনের—ভিসা-ফ্রি, ভিসা অন অ্যারাইভাল, ই-ভিসা এবং ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন। তবে এসব সুবিধা কেবল পর্যটন, স্বল্পমেয়াদি ব্যবসা বা পারিবারিক সফরের জন্যই প্রযোজ্য। কর্মসংস্থান, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভিসা আলাদা হয়।

ভিসা-ফ্রি দেশ

ভিসা-ফ্রি বলতে কোনো দেশে ভ্রমণের জন্য রওনা হওয়ার আগে নিজ দেশ থেকে আগাম কোনো ভিসা বা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বৈধ পাসপোর্টটি সঙ্গে থাকলেই সরাসরি ভিসা-ফ্রি দেশগুলোতে যাওয়া যায় এবং সে দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন পার হয়ে সরাসরি প্রবেশ করা যায়।

বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন যে দেশগুলোতে—বাহামাস, বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডমিনিকা, ফিজি, গাম্বিয়া, গ্রেনাডা, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, জ্যামাইকা, কিরিবাতি, লেসোথো, ম্যাকাও, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিউই, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ভানুয়াতু। এসব দেশে ২১ থেকে ১৮০ দিনের মতো অবস্থান করা যায়। তবে এসব সময়সীমা দেশভেদে ভিন্ন হয়।

ভিসা অন অ্যারাইভাল (ভিওএ)

এক্ষেত্রে নিজ দেশ থেকে ভিসা নিতে হয় না, তবে গন্তব্য দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার ইমিগ্রেশন ডেস্কে ফি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক ভিসা নিতে হয়। বাংলাদেশিরা যেসব বিমানবন্দর বা সীমান্তে ভিসা নিতে পারেন তা হলো—বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে, কমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, লাওস, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মরিতানিয়া, মোজাম্বিক, পালাউ, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সেন্ট লুসিয়া, তানজানিয়া, তিমুর-লেস্তে, টোগো, টুভালু। তবে অনেক দেশেই ভিসা অন অ্যারাইভাল পেলেও আগেই হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ বা অনলাইন প্রাক-নিবন্ধন দেখাতে হয়।

ই-ভিসাযুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ

ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসা হলো এমন একটি ভিসা ব্যবস্থা, যেখানে দূতাবাসে গিয়ে কাগজপত্র জমা না দিয়ে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড এবং ফি পরিশোধ করা যায়। আবেদন অনুমোদিত হলে ই-মেইলে বা অনলাইন পোর্টালে ভিসা অনুমোদনপত্র পাওয়া যায়, যা প্রিন্ট করে বা ডিজিটাল কপিসহ ভ্রমণ করা যায়। এতে ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত ও সহজ হয়। বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা চালু রয়েছে যেসব দেশে—আলবেনিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেনিন, কলম্বিয়া।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে ই-ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণ করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কম্বোডিয়া, হংকং (বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল), ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ, যোগ্যতা এবং শর্ত আলাদা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ই-ভিসা ওয়েবসাইট বা দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে আবেদন করা উচিত।

ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা

ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) হলো ভ্রমণের আগে অনলাইনে নেওয়া একটি ডিজিটাল ভ্রমণ অনুমোদন। এটি ভিসা নয়, বরং যেসব দেশ নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ইটিএ চালু করেছে, সেখানে ভ্রমণের আগে অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হয়। আবেদনকারীর পাসপোর্ট, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়া হয়। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সাধারণত পাসপোর্টের সঙ্গে ইলেকট্রনিকভাবে সংযুক্ত থাকে এবং আলাদা ভিসা স্টিকার লাগানোর প্রয়োজন হয় না।

২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা কেনিয়া এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে ইটিএ সুবিধা নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। এর অর্থ হলো, এসব দেশে যেতে দূতাবাস থেকে প্রচলিত ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ভ্রমণের আগে ইটিএ অনলাইনে অনুমোদন নিলেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রবেশ করা যায়। তবে ইটিএ ভিসামুক্ত প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সীমান্ত কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নির্দেশনা ও প্রবেশের শর্ত যাচাই করতে হয়। বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানে এ ধরনের সুবিধা রয়েছে কেনিয়া, সেশেলস ও শ্রীলঙ্কায়।

কেন ভিসা ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি হয়

অনেকেই ‘ভিসা-ফ্রি’ এবং ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’কে একই বিষয় মনে করেন। আসলে এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। ভিসা-ফ্রি মানে কোনো আগাম ভিসা ছাড়াই সরাসরি প্রবেশের সুযোগ। অন্যদিকে ভিসা অন অ্যারাইভাল মানে গন্তব্যে পৌঁছে নির্ধারিত ফি দিয়ে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা নিতে হয়। আবার ই-ভিসার ক্ষেত্রে যাত্রার আগেই অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়।

ভিসা-ফ্রি হলেও অনেক দেশ কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করে। যেমন পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে, রিটার্ন বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট থাকতে হবে, হোটেল বুকিং বা আবাসনের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে, স্বাস্থ্যবিমা বা টিকাদান সনদ প্রয়োজন হতে পারে। এসব শর্ত পূরণ না হলে ভিসা-ফ্রি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি নাও দিতে পারে।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এখনো বিশ্বের তুলনামূলক দুর্বল পাসপোর্টগুলোর একটি। ফলে ইউরোপের শেনজেন অঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে ভ্রমণের জন্য আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক। তবে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশে বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম বাজেট ঘোষণা: ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার প্রস্তাব

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারেন বাংলাদেশিরা

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির ওপর নজর রেখে প্রতিবছর বিশ্ব পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংস্থাটি শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাটিতে বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়ার সাথে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে।

সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সীমিত সংখ্যক দেশে আগাম দূতাবাসের ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। এসব সুবিধা মূলত চার ধরনের—ভিসা-ফ্রি, ভিসা অন অ্যারাইভাল, ই-ভিসা এবং ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন। তবে এসব সুবিধা কেবল পর্যটন, স্বল্পমেয়াদি ব্যবসা বা পারিবারিক সফরের জন্যই প্রযোজ্য। কর্মসংস্থান, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভিসা আলাদা হয়।

ভিসা-ফ্রি দেশ

ভিসা-ফ্রি বলতে কোনো দেশে ভ্রমণের জন্য রওনা হওয়ার আগে নিজ দেশ থেকে আগাম কোনো ভিসা বা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বৈধ পাসপোর্টটি সঙ্গে থাকলেই সরাসরি ভিসা-ফ্রি দেশগুলোতে যাওয়া যায় এবং সে দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন পার হয়ে সরাসরি প্রবেশ করা যায়।

বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন যে দেশগুলোতে—বাহামাস, বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, ডমিনিকা, ফিজি, গাম্বিয়া, গ্রেনাডা, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, জ্যামাইকা, কিরিবাতি, লেসোথো, ম্যাকাও, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিউই, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, ভানুয়াতু। এসব দেশে ২১ থেকে ১৮০ দিনের মতো অবস্থান করা যায়। তবে এসব সময়সীমা দেশভেদে ভিন্ন হয়।

ভিসা অন অ্যারাইভাল (ভিওএ)

এক্ষেত্রে নিজ দেশ থেকে ভিসা নিতে হয় না, তবে গন্তব্য দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার ইমিগ্রেশন ডেস্কে ফি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক ভিসা নিতে হয়। বাংলাদেশিরা যেসব বিমানবন্দর বা সীমান্তে ভিসা নিতে পারেন তা হলো—বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে, কমোরোস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, লাওস, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মরিতানিয়া, মোজাম্বিক, পালাউ, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সেন্ট লুসিয়া, তানজানিয়া, তিমুর-লেস্তে, টোগো, টুভালু। তবে অনেক দেশেই ভিসা অন অ্যারাইভাল পেলেও আগেই হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ বা অনলাইন প্রাক-নিবন্ধন দেখাতে হয়।

ই-ভিসাযুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ

ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসা হলো এমন একটি ভিসা ব্যবস্থা, যেখানে দূতাবাসে গিয়ে কাগজপত্র জমা না দিয়ে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড এবং ফি পরিশোধ করা যায়। আবেদন অনুমোদিত হলে ই-মেইলে বা অনলাইন পোর্টালে ভিসা অনুমোদনপত্র পাওয়া যায়, যা প্রিন্ট করে বা ডিজিটাল কপিসহ ভ্রমণ করা যায়। এতে ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত ও সহজ হয়। বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা চালু রয়েছে যেসব দেশে—আলবেনিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেনিন, কলম্বিয়া।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে ই-ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণ করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কম্বোডিয়া, হংকং (বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল), ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ, যোগ্যতা এবং শর্ত আলাদা হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ই-ভিসা ওয়েবসাইট বা দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে আবেদন করা উচিত।

ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা

ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) হলো ভ্রমণের আগে অনলাইনে নেওয়া একটি ডিজিটাল ভ্রমণ অনুমোদন। এটি ভিসা নয়, বরং যেসব দেশ নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ইটিএ চালু করেছে, সেখানে ভ্রমণের আগে অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন নিতে হয়। আবেদনকারীর পাসপোর্ট, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদন দেওয়া হয়। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সাধারণত পাসপোর্টের সঙ্গে ইলেকট্রনিকভাবে সংযুক্ত থাকে এবং আলাদা ভিসা স্টিকার লাগানোর প্রয়োজন হয় না।

২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা কেনিয়া এবং সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে ইটিএ সুবিধা নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। এর অর্থ হলো, এসব দেশে যেতে দূতাবাস থেকে প্রচলিত ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ভ্রমণের আগে ইটিএ অনলাইনে অনুমোদন নিলেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রবেশ করা যায়। তবে ইটিএ ভিসামুক্ত প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সীমান্ত কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নির্দেশনা ও প্রবেশের শর্ত যাচাই করতে হয়। বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানে এ ধরনের সুবিধা রয়েছে কেনিয়া, সেশেলস ও শ্রীলঙ্কায়।

কেন ভিসা ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি হয়

অনেকেই ‘ভিসা-ফ্রি’ এবং ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’কে একই বিষয় মনে করেন। আসলে এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। ভিসা-ফ্রি মানে কোনো আগাম ভিসা ছাড়াই সরাসরি প্রবেশের সুযোগ। অন্যদিকে ভিসা অন অ্যারাইভাল মানে গন্তব্যে পৌঁছে নির্ধারিত ফি দিয়ে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা নিতে হয়। আবার ই-ভিসার ক্ষেত্রে যাত্রার আগেই অনলাইনে আবেদন করে অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়।

ভিসা-ফ্রি হলেও অনেক দেশ কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করে। যেমন পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে, রিটার্ন বা পরবর্তী গন্তব্যের টিকিট থাকতে হবে, হোটেল বুকিং বা আবাসনের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে, স্বাস্থ্যবিমা বা টিকাদান সনদ প্রয়োজন হতে পারে। এসব শর্ত পূরণ না হলে ভিসা-ফ্রি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রবেশের অনুমতি নাও দিতে পারে।

হেনলি পাসপোর্ট সূচক ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এখনো বিশ্বের তুলনামূলক দুর্বল পাসপোর্টগুলোর একটি। ফলে ইউরোপের শেনজেন অঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে ভ্রমণের জন্য আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক। তবে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশে বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়েছে।