ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দুই কিডনি বিকল, চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন মাছ বিক্রেতা নাসির

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও বাজারের পরিচিত মাছ বিক্রেতা নাসির খালাসি (৪০) দুটি কিডনি বিকল হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাকে, যার জন্য সপ্তাহে প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়। এর বাইরে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। কিন্তু অসুস্থ শরীরে তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন মাছ বিক্রি করতে পারেন। ঘরে তার চার ছোট সন্তান অপেক্ষা করছে, যার মধ্যে সবার বড় সন্তানের বয়স মাত্র ১০ বছর।

নাসিরের জীবন সংগ্রামময়। ২০ বছর আগে নদী ভাঙনে তার বাড়িভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি পাশের কুকরাদি গ্রামে আশ্রয় নিয়ে মাছ ব্যবসাকেই বেছে নেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করে চার সন্তান নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু দুটি কিডনি বিকল হওয়ার পর সেই পথও বন্ধ হয়ে আসছে। পূর্বে ঢাকার একটি হাসপাতালে কম খরচে ডায়ালাইসিস করালেও, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে বেশি খরচে ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসির বলেন, ‘আগে নিজে কামাই করে চিকিৎসা চালাইতাম। এখন শরীরে শক্তি নেই। পোলা-মাইয়াগোর মুখের দিকে তাকাইয়া বাঁচতে চাই।’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন। পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বেপারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো তহবিল না থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। নাসির সরকারিভাবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ৮৭ লাখ টাকার সড়ক ১৫ দিনেই বিধ্বস্ত: ক্ষোভ স্থানীয়দের

দুই কিডনি বিকল, চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন মাছ বিক্রেতা নাসির

আপডেট সময় : ১০:১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও বাজারের পরিচিত মাছ বিক্রেতা নাসির খালাসি (৪০) দুটি কিডনি বিকল হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাকে, যার জন্য সপ্তাহে প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়। এর বাইরে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। কিন্তু অসুস্থ শরীরে তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন মাছ বিক্রি করতে পারেন। ঘরে তার চার ছোট সন্তান অপেক্ষা করছে, যার মধ্যে সবার বড় সন্তানের বয়স মাত্র ১০ বছর।

নাসিরের জীবন সংগ্রামময়। ২০ বছর আগে নদী ভাঙনে তার বাড়িভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি পাশের কুকরাদি গ্রামে আশ্রয় নিয়ে মাছ ব্যবসাকেই বেছে নেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ বিক্রি করে চার সন্তান নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু দুটি কিডনি বিকল হওয়ার পর সেই পথও বন্ধ হয়ে আসছে। পূর্বে ঢাকার একটি হাসপাতালে কম খরচে ডায়ালাইসিস করালেও, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে বেশি খরচে ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসির বলেন, ‘আগে নিজে কামাই করে চিকিৎসা চালাইতাম। এখন শরীরে শক্তি নেই। পোলা-মাইয়াগোর মুখের দিকে তাকাইয়া বাঁচতে চাই।’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন। পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বেপারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো তহবিল না থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। নাসির সরকারিভাবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি।