ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীতে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা

রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় প্রায় নয় বছর আগে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পীর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য হওয়ার পর গত ১৪ জুলাই মনির হোসেনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে পুনরায় সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালের দিকে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিরা খাতুন সোমার বিবাহ হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছিলেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার কাছে টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়েছিল, এমনকি সোমার দুই বোনও তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। কিন্তু এরপরও টাকার জন্য তার ওপর নির্যাতন কমেনি।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনির সোমাকে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেন। তখন সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। কয়েক দিন পর মনির আর এমনটা করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করে সোমাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। তবে এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একই বছরের ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই নৃশংস ঘটনার পরদিনই সোমার মা আক্তার বানু বাড্ডা থানায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বো আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জাতীয় পাহাড়ি কৃষি মিশন’ গঠন ও টেকসই সবুজ অর্থনীতির নতুন স্বপ্ন

রাজধানীতে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় প্রায় নয় বছর আগে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পীর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য হওয়ার পর গত ১৪ জুলাই মনির হোসেনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে পুনরায় সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৩ সালের দিকে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিরা খাতুন সোমার বিবাহ হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছিলেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমার কাছে টাকার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়েছিল, এমনকি সোমার দুই বোনও তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন। কিন্তু এরপরও টাকার জন্য তার ওপর নির্যাতন কমেনি।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মনির সোমাকে নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দেন। তখন সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। কয়েক দিন পর মনির আর এমনটা করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করে সোমাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। তবে এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। একই বছরের ৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে জবাই করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই নৃশংস ঘটনার পরদিনই সোমার মা আক্তার বানু বাড্ডা থানায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বো আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।