ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রতারণা মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির জামিন, কারামুক্তিতে আর বাধা নেই

রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদির সব মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন আদালতে জামিন আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ শোভন।

অ্যাডভোকেট শোভন জানান, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা ছিল। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগেই জামিন পেয়েছিলেন। আজ ওয়ারী থানার মামলায় জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তির পথ সুগম হলো।

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চলতি বছরের ১১ জুন এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই মো. মাহফুজুর রহমান এবং ১৫ জুন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি নামের এক নারী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজের অফার পান। ফাতেমা ঐশী পরিচয় দিয়ে একজন ব্যক্তি দ্যূতিকে গুগলে রিভিউ দিতে বলেন এবং কাজের জন্য টেলিগ্রাম অ্যাপ খুলতে বলেন। পরদিন কাজের জন্য দ্যূতিকে ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। এরপর লিসা নামের এক ব্যক্তি তাকে টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করেন। সেখানে অন্যান্য সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর মুনাফাসহ আসল ফেরত পেলে তার স্ক্রিনশট দিত। এতে আশ্বস্ত হয়ে দ্যূতি লিসার বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠান এবং সেদিনই তিনি আসলসহ ২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত পান।

গত বছরের ১৫ জানুয়ারি তাকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা পাঠানো হয় এবং আরও কাজ শেখার জন্য তাকে আরেকটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে বলা হয়। এভাবে বিশ্বস্ততা অর্জন করে দ্যূতির কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করা হয়। এই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, গুচ্ছগ্রামে শোকের মাতম

প্রতারণা মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির জামিন, কারামুক্তিতে আর বাধা নেই

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদির সব মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন আদালতে জামিন আবেদন করে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ শোভন।

অ্যাডভোকেট শোভন জানান, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা ছিল। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগেই জামিন পেয়েছিলেন। আজ ওয়ারী থানার মামলায় জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তির পথ সুগম হলো।

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। চলতি বছরের ১১ জুন এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই মো. মাহফুজুর রহমান এবং ১৫ জুন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি নামের এক নারী হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজের অফার পান। ফাতেমা ঐশী পরিচয় দিয়ে একজন ব্যক্তি দ্যূতিকে গুগলে রিভিউ দিতে বলেন এবং কাজের জন্য টেলিগ্রাম অ্যাপ খুলতে বলেন। পরদিন কাজের জন্য দ্যূতিকে ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। এরপর লিসা নামের এক ব্যক্তি তাকে টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করেন। সেখানে অন্যান্য সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর মুনাফাসহ আসল ফেরত পেলে তার স্ক্রিনশট দিত। এতে আশ্বস্ত হয়ে দ্যূতি লিসার বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠান এবং সেদিনই তিনি আসলসহ ২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত পান।

গত বছরের ১৫ জানুয়ারি তাকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা পাঠানো হয় এবং আরও কাজ শেখার জন্য তাকে আরেকটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে বলা হয়। এভাবে বিশ্বস্ততা অর্জন করে দ্যূতির কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করা হয়। এই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন।