রাজধানীর উত্তরায় ‘জুলাই বিপ্লব’ চলাকালে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই আবেদন উপস্থাপন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, যিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং বিচার শুরুর আবেদন জানান।
স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন তার মক্কেলদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করেছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরের ৩ নম্বর সেক্টরে জুলাই বিপ্লবে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা এবং ছাত্র-জনতাকে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন উত্তরা এলাকায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া, ওইদিন উত্তরায় এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয় নিহত হন।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এই মামলায় ডিএমপি উত্তরা জোনের সাবেক ডিসি মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানা ওসি মজিবুর রহমান, হোসেন আলী, মনোয়ার হোসেন চৌধুরী রবিন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে রুবেল, সোহেল রানা, শাহ আলম, ইরফানুল গাজী ওরফে সিয়ামসহ মোট ৮ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি ১৮ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























