সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘মাইটিভি’-র চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে রাজধানীর ওয়ারী থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে জামিন প্রদান করেছেন। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের বিচারিক আদালত আফ্রিদির পক্ষে করা জামিন আবেদনের দীর্ঘ শুনানি শেষে তাঁর এই জামিন মঞ্জুর করার আদেশ দেন।
তৌহিদ আফ্রিদির নিযুক্ত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন আদালতের এই আদেশের পর সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, আফ্রিদির বিরুদ্ধে সর্বমোট তিনটি পৃথক মামলা ঝুলছিল। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি ইতিপূর্বেই মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেছিলেন। আজ রাজধানীর ওয়ারী থানার মামলায়ও বিচারিক আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সবকটি মামলাতেই তিনি জামিনে রয়েছেন। ফলে কারাগার থেকে তাঁর মুক্তিতে আর কোনো প্রকার আইনগত জটিলতা বা বাধা অবশিষ্ট নেই।
এর আগে, বিগত ১৫ জুন ওয়ারী থানার এই সুনির্দিষ্ট মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল (Show Arrest)। মামলার আনুষ্ঠানিক এজাহার এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাকরির প্রলোভন ও ফাঁদ দেখিয়ে একটি সুসংগঠিত অনলাইন প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম মাধ্যম ব্যবহার করে। এরপর তারা বিভিন্ন কৌশল ও ধাপে ধাপে বাদীকে অর্থ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করে।
প্রতারণা কার্যক্রমের শুরুতে বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্যে অল্প পরিমাণ অর্থ ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করার পর, পরবর্তীতে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মোটা অঙ্কের লাভ বা মুনাফাসহ আসল অর্থ ফেরত দেওয়ার ভুয়া আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়। ভয়াবহ এই অনলাইন জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি নামের এক নারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট বরিশাল জেলা এলাকা থেকে সিআইডি (CID)-র একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তৌহিদ আফ্রিদিকে প্রথম গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে দেশে ঘটে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে ধারাবাহিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 

























