বগুড়ার কাহালু উপজেলার গুচ্ছগ্রামে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে নেমে অসাবধানতাবশত ডুবে যায় তারা। এই হৃদয় বিদারক ঘটনায় পুরো কাহালু উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারানোর বেদনায় স্বজনদের আহাজারিতে গুচ্ছগ্রামের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
নিহত শিশুরা হলো গুচ্ছগ্রামের রাশেদুল ইসলামের পুত্র জাকিরুল (৬) এবং ফারুক মণ্ডলের দুই সন্তান ফাইম (৮) ও সুরাইয়া (৫)। একই পরিবারের দুই সন্তানসহ তিন শিশুর এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয়দের চোখে জল। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে ভালতা গুচ্ছগ্রামের এই তিন শিশু খেলতে বের হয়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পরও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। দুপুর ১টার দিকে জনৈক সালমা খাতুন পুকুরের পানিতে শিশু জাকিরুলের নিথর দেহ ভাসতে দেখেন। তার চিৎকারে পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে আরও দুই শিশু নিখোঁজ থাকার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুকুরে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের তল্লাশিতে পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু ফাইম ও সুরাইয়াকে।
স্থানীয়রা আরও জানান, নিহত ভাই-বোন ফাইম ও সুরাইয়াকে তাদের নানী দেখাশোনা করতেন। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য তাদের মা বিভিন্ন স্থানে কাজ করেন। তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার বিচ্ছিন্ন এবং সন্তানদের ভরণপোষণ দেন না।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুকুরের পানিতে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























