ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালীতে ৪০ বছর পর দখলমুক্ত হলো সরকারি খাল, জনমনে স্বস্তি

ফরিদপুরের মধুখালীতে দীর্ঘ চার দশক (৪০ বছর) ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় পরিচালিত এক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার এই সাহসী পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে চন্দনা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই সরকারি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছিল দখলদারেরা।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংবাদিকবৃন্দ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে পেঁয়াজ বাজারের এই খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় মহাসড়কের নিচের কালভার্টের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে রাস্তার দক্ষিণ পাশের বাসিন্দারা মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হতেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃত্রিম বন্যা এবং হাটের দিনগুলোতে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে পেঁয়াজ বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, যা হাটের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা উভয়কেই উপকৃত করবে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ জনগণ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী দখলদারেরা খালটি ভরাট করে দখল করে রেখেছিল, যার ফলে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। উচ্ছেদের পর পুরো এলাকায় যেন নতুন করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।

উল্লেখ্য, মধুখালীতে যোগদানের পর থেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত একের পর এক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন এবং ভূমি অফিসে সেবা গ্রহীতাদের মাঝে নতুন আশা ও আস্থা সৃষ্টি করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জাতীয় পাহাড়ি কৃষি মিশন’ গঠন ও টেকসই সবুজ অর্থনীতির নতুন স্বপ্ন

ফরিদপুরের মধুখালীতে ৪০ বছর পর দখলমুক্ত হলো সরকারি খাল, জনমনে স্বস্তি

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের মধুখালীতে দীর্ঘ চার দশক (৪০ বছর) ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় পরিচালিত এক উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার এই সাহসী পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্তের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে চন্দনা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এই সরকারি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স্থায়ী ও অস্থায়ী বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছিল দখলদারেরা।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, সাংবাদিকবৃন্দ ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে পেঁয়াজ বাজারের এই খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় মহাসড়কের নিচের কালভার্টের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে রাস্তার দক্ষিণ পাশের বাসিন্দারা মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হতেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃত্রিম বন্যা এবং হাটের দিনগুলোতে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে পেঁয়াজ বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, যা হাটের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা উভয়কেই উপকৃত করবে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ জনগণ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী দখলদারেরা খালটি ভরাট করে দখল করে রেখেছিল, যার ফলে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। উচ্ছেদের পর পুরো এলাকায় যেন নতুন করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে।

উল্লেখ্য, মধুখালীতে যোগদানের পর থেকেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত একের পর এক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন এবং ভূমি অফিসে সেবা গ্রহীতাদের মাঝে নতুন আশা ও আস্থা সৃষ্টি করেছেন।