ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস নেই, চরম আর্থিক সংকটে ৪৫ ও ৪৯তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্তরা

প্রতিবেদন: বিসিএসের তিনটি ধাপ—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পেরিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসা সত্ত্বেও দীর্ঘ সাত মাস ধরে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় ৪৫তম সাধারণ ও ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের আড়াই হাজার তরুণ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ এই প্রতীক্ষা কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই স্থবিরতা আনছে না, বরং ৪৭তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সোমবার এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী কথা বললেও গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা জুলাইয়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি।

প্রশাসনিক এই ধীরগতির ফলে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে ৪৭তম বিসিএস। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৫ ও ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত বহু প্রার্থী ঝুঁকি এড়াতে ৪৭তম বিসিএসেও অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যদি আগের দুই বিসিএসের গেজেট সময়মতো প্রকাশিত হতো, তবে তারা সেই চাকরি নিশ্চিত করে ৪৭তম বিসিএসের পদগুলো ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু গেজেট না হওয়ায় তারা কোনো পথই ছাড়তে পারছেন না। চাকরিপ্রার্থীদের আশঙ্কা, এই সমন্বয়হীনতার কারণে ৪৭তম বিসিএসের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদ স্থায়ীভাবে শূন্য থেকে যেতে পারে, যা দেশের শিক্ষিত বেকারদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও রি-ভেরিফিকেশনের মতো আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই বলে মন্ত্রণালয় দাবি করছে। তবে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরে জনবলসংকট বিদ্যমান এবং সরকার দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এদিকে, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ৪৫তম বিসিএসের ১ হাজার ৮০৭ জন এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ৬৬৮ জন প্রার্থীর মানবিক ও আর্থিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর অনেকেই তাদের আগের টিউশনি বা খণ্ডকালীন চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, ফলে এখন তারা চরম অর্থকষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এসব চাকরিপ্রার্থী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যাতে ৪৭তম বিসিএসের মূল্যবান পদগুলো নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং তাদের অনিশ্চিত ক্যারিয়ারের অবসান ঘটে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের মাস পেরোতেই ধসে পড়ল কোটি টাকার সড়ক

গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস নেই, চরম আর্থিক সংকটে ৪৫ ও ৪৯তম বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্তরা

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

প্রতিবেদন: বিসিএসের তিনটি ধাপ—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা পেরিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসা সত্ত্বেও দীর্ঘ সাত মাস ধরে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় ৪৫তম সাধারণ ও ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের আড়াই হাজার তরুণ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ এই প্রতীক্ষা কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই স্থবিরতা আনছে না, বরং ৪৭তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সোমবার এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী কথা বললেও গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা জুলাইয়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো স্পষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি।

প্রশাসনিক এই ধীরগতির ফলে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে ৪৭তম বিসিএস। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৫ ও ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত বহু প্রার্থী ঝুঁকি এড়াতে ৪৭তম বিসিএসেও অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যদি আগের দুই বিসিএসের গেজেট সময়মতো প্রকাশিত হতো, তবে তারা সেই চাকরি নিশ্চিত করে ৪৭তম বিসিএসের পদগুলো ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু গেজেট না হওয়ায় তারা কোনো পথই ছাড়তে পারছেন না। চাকরিপ্রার্থীদের আশঙ্কা, এই সমন্বয়হীনতার কারণে ৪৭তম বিসিএসের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদ স্থায়ীভাবে শূন্য থেকে যেতে পারে, যা দেশের শিক্ষিত বেকারদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও রি-ভেরিফিকেশনের মতো আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যাচাই-বাছাইয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই বলে মন্ত্রণালয় দাবি করছে। তবে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, বর্তমানে সরকারি দপ্তরে জনবলসংকট বিদ্যমান এবং সরকার দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এদিকে, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ৪৫তম বিসিএসের ১ হাজার ৮০৭ জন এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ৬৬৮ জন প্রার্থীর মানবিক ও আর্থিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর অনেকেই তাদের আগের টিউশনি বা খণ্ডকালীন চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, ফলে এখন তারা চরম অর্থকষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এসব চাকরিপ্রার্থী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যাতে ৪৭তম বিসিএসের মূল্যবান পদগুলো নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং তাদের অনিশ্চিত ক্যারিয়ারের অবসান ঘটে।