ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির অনন্য উদ্যোগ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কর্নার

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক, বিশিষ্ট কবি ও লেখক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় দশ হাজার দুষ্প্রাপ্য বই সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার প্রতিষ্ঠা অথবা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, আবদুল হাই শিকদার এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান এই সংগ্রহকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বই নয়, বরং দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান এবং এ ক্ষেত্রে ইউজিসির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, এই উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ করে ঐ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। তিনি দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভসে সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় দশ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না। তিনি জানান, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং বাকি বইগুলো কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ২

কবি আবদুল হাই শিকদারের ১০ হাজার বই সংরক্ষণে ইউজিসির অনন্য উদ্যোগ: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কর্নার

আপডেট সময় : ০৮:১০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক, বিশিষ্ট কবি ও লেখক আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় দশ হাজার দুষ্প্রাপ্য বই সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে তার নামে একটি বিশেষ কর্নার প্রতিষ্ঠা অথবা পৃথক স্থানে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, আবদুল হাই শিকদার এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইউজিসি চেয়ারম্যান এই সংগ্রহকে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির বই নয়, বরং দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান এবং এ ক্ষেত্রে ইউজিসির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, এই উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ করে ঐ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। তিনি দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভসে সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

আবদুল হাই শিকদার জানান, তার সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় দশ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না। তিনি জানান, সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন এবং বাকি বইগুলো কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন। তার ইচ্ছা, পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।